আজ ২৫ জানুয়ারি দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসাবে পালন করবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং এর নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার দিনের প্রতিবাদ জানানোর লক্ষ্যে তারা এটি পালন করবে। এ উপলক্ষে কাল শনিবার সারাদেশে সভা-সমাবেশ কর্মসূচি পালন করবে ১৮ দল। আজ শুক্রবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী হওয়ায় পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচি পিছিয়ে আজকের পরিবর্তে কাল পালন করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে গতকাল এক বাণীতে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করার লক্ষ্যে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করে একদলীয় সরকার ব্যবস্থা বাকশাল কায়েম করে। বহু চক্রান্তের চোরাগলি পথে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে এখনও আবার সেই অগণতান্ত্রিক শক্তি বাকশালী চেতনায় নতুন করে অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে চলেছে। এদের কাছে কখনোই গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার নিরাপদ থাকেনি। বাণীতে তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে তাদের বিপদ টের পেয়ে তারা সংবিধান থেকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে জনগণের ভোটের অধিকারকেও হরণ করেছে। একক কর্তৃত্ববাদী শাসন দীর্ঘায়িত করার অলীক স্বপ্নে দেশের ঐক্য, সংহতি ও সার্বভৌমত্বকে তারা সংকটাপন্ন করে তুলতেও দ্বিধা করছে না। বিরোধী দলের প্রতি আচরণে তারা কখনোই সভ্য রীতি-নীতি অনুসরণ করেনি। সুতরাং নব্য বাকশালী জগদ্দল পাথরকে অপসারণ করার লক্ষ্যে জনগণ আজ দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ, আবারও কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে চেপেবসা গণতন্ত্র-বিরোধী শক্তিকে পরাভূত করে আমাদের রক্তস্নাত বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলাকে নিরাপদ করতে হবে।
পৃথক বিবৃতিতে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান শাসন ১৯৭৫ সালের সেই দুঃশাসনেরই পুনরাবৃত্তি। বিএনপি জন্মলগ্ন থেকেই জনগণের মৌলিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় আঙ্গীকারাবদ্ধ। আগামীতে দেশ ও জাতির স্বার্থে বিএনপি জনগণকে সাথে নিয়ে দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথচলাকে নিষ্কন্টক করবে।
