যুবক গ্রেফতার আদালতে হত্যার দায় স্বীকার

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৪
সিংগাইরে দিনে-দুপুরে গুলিতে দুই যুবক শামীম ও শাওনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেফতার করেছে সিংগাইর থানা পুলিশ। তার নাম আসাদুজ্জামান জিসান (২৪)। তিনি বরগুনা সদর থানার রূপপাড়া গ্রামের ফারুক হাওলাদারের ছেলে। বর্তমানে তারা সাভারের রাজাসন এলাকার বাসিন্দা। গতকালই মানিকগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন জিসান। সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর দেয়া তথ্যমতে, হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিতে জিসান জানিয়েছেন, আর্থিক লেনদেন ও এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জের ধরেই তারা চারজন মিলে এ জোড়া খুনের ঘটনা ঘটান। জবানবন্দি শেষে আদালতের নির্দেশে জিসানকে মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। সিংগাইর থানার ওসি জানান, গতকাল সকাল ১১টার দিকে সাভারের রাজাসন থেকে জিসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহত দুই যুবকের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সাভারের রাজাসন থেকে দুই মোটর সাইকেলে শাওন, শামীম, নজরুল, জিসানসহ ছয়জন শহীদ রফিক সেতু পার হয়ে সিংগাইর উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের বকচর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর নির্জন পাড়ে আসেন। কিছুক্ষণ পর শাওন ও শামীমকে গুলি করে অন্য চারজন মোটর সাইকেল নিয়ে দ্রুত চলে যান। গুলির শব্দে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে দুইজনের মৃত দেহ পড়ে থাকতে দেখে সিংগাইর থানা পুলিশে খবর দেন। ওই দিন রাত ৮টার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে খুনের আলামত সংগ্রহ করে। পরে সিংগাইর থানা পুলিশ লাশ দুইটি উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শান্তিপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই শাহজাহান আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। জিসানকে আটকের পর গতকাল ওই মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। নিহত শাওনের ভাই সজল, সিংগাইর ও সাভার থানা পুলিশ জানায়, রাজাসন গ্রামের নজরুল ৪-৫ মাস আগে ঢাকার উত্তরায় অস্ত্রসহ র্যাবের হাতে ধরা পড়েন। নজরুলের ব্যবহূত মোটর সাইকেলটি তখন শাওন ও শামীমের কাছে ছিল। পরে সাভার উপজেলা যুবলীগ নেতা সেলিম মণ্ডল মোটর সাইকেলটি শাওনের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন। কয়েকদিন আগে নজরুল জেল থেকে ছাড়া পেয়ে শাওনের কাছে মোটর সাইকেলটি দাবি করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে রাজ নামে এক বন্ধু শাওনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এ সময় শাওনের সঙ্গে তার বন্ধু শামীম ও জিসান ছিল। শামীমের মামা জহিরুল ইসলাম বাবু জানান, সাভার বাস স্ট্যান্ডে ‘নিউ সাভার ইলেকট্রনিক্স’ নামে তার একটি দোকান রয়েছে। সেখানে শামীম কাজ করতেন। মঙ্গলবার রাতে শামীম বাড়ি ফেরেননি। পত্রিকায় জোড়া খুনের খবর পেয়ে সিংগাইর থানায় এসে ভাগ্নের লাশ সনাক্ত করেন তিনি। এদিকে সাভারের যুবলীগ নেতা সেলিম মণ্ডল পরদিন বুধবার সিংগাইর থানায় আসেন শাওন ও শামীমের লাশ দেখতে। থানার ওসির কক্ষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, শাওনের কাছ থেকে তিনি কোনো মোটর সাইকেল নেননি। নজরুলকে তিনি চেনেন না। তবে শাওনকে তিনি এলাকার লোক হিসেবে চেনেন। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। সাভার থানা পুলিশ জানান, শাওন ও শামীম এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তারা কয়েকবার জেলও খেটেছে।