উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে নৌকায় আবার ভোট দিন

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৪
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশসেবার সুযোগ দেয়ার জন্য বৃহত্তর খুলনাসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের মানুষ কিছু পায়, আর বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসলে সবকিছু লুটে খায়। যাদের কারণে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ধ্বংস হয়েছে। যারা দেশকে দুর্নীতিতে পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছে, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস-হত্যা-নির্যাতন চালিয়ে দেশের মানুষের শান্তি কেড়ে নিয়েছে—দেশের মানুষ আর তাদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তি চায়। রাজাকার-আলবদরদের নিয়ে বিএনপির ক্ষমতায় আসা মানেই দেশে আবারও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-দুর্নীতির বিস্তার ঘটানো। দেশের মানুষ আর সেই দুর্বিষহ অবস্থায় ফিরে যেতে চায় না। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবারও নৌকা মার্কায় ভোট চাইলে লাখ লাখ মানুষ দুহাত তুলে তাকে সমর্থন জানান। তিনি বলেন, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর মধ্যেই আমরা বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত আত্মনির্ভরশীল মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করবো। তিনি বলেন, দেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। আরেকবার সুযোগ দিন আমরা বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় মর্যাদাপূর্ণ আত্মনির্ভরশীল করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবোই ইনশাল্লাহ। জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের গত চার বছরে দেশের সার্বিক উন্নয়নের বর্ণনার পাশাপাশি বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বিদেশিদের হাতে বাংলাদেশের সম্পদ বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়ার সরকার দেশকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মৃত্যুপুরী বানিয়েছিল। বিশেষ করে বৃহত্তর খুলনায় বিএনপি-জামায়াত জোটের পাঁচ বছরে ছিল সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য, মৃত্যুপুরী। শুধু খুলনাতেই হাজার হাজার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাংবাদিক হুমায়ুন কবির বালু, মানিক সাহা, হারুনর রশিদসহ অসংখ্য সাংবাদিককে জীবন দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় এসে খুলনা অঞ্চলের সন্ত্রাস দমন করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের এই চার বছরের শাসনামলে সবদিক দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলীয় নেত্রীর পুত্রের দুর্নীতির পাচার করা অর্থ-সম্পদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় ধরা পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআই এসে তার পুত্রদের অর্থ পাচারের ঘটনায় আদালতে সাক্ষী পর্যন্ত দিয়েছে। আমরা ক্ষমতায় এসে বিরোধী দলীয় নেত্রীর পুত্রের পাচার করা অর্থ ফেরত এনেছি। একে একে পাচারকৃত সব অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে দেশের উন্নয়নে ব্যয় করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। বিদ্যুত খাতে উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় এসেই দেখলাম বিদ্যুতের জন্য সারাদেশে হাহাকার। ২০০১ সালে ক্ষমতা ছাড়ার সময় ৪ হাজার ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করে রেখে গিয়েছিলাম। সাত বছর পর এবার ক্ষমতায় এসে দেখলাম বিদ্যুত্ উত্পাদন তো বাড়েইনি বরং কমে ৩ হাজার ৩শ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে এক ফোঁটাও বিদ্যুত্ উত্পাদন না করে সব টাকা লুটেপুটে খেয়ে গেছে। বিএনপি ক্ষমতায় থেকে দেশবাসীকে বিদ্যুত্ দেয়নি, দিয়েছে বিদ্যুতের খাম্বা। কারণ তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র খাম্বার ব্যবসা করতেন। তাই তারা খাম্বা দিয়েছে, বিদ্যুত্ দেয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান মহাজোট সরকার মাত্র চার বছরেই সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করেছে। সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে আমরা গ্রাম-বাংলাকে আলোকিত করছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে তার সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছি। আমরা নির্বাচনের আগে দেশবাসীকে কথা দিয়েছিলাম ক্ষমতায় আসলে একাত্তরে যারা লাখো মানুষকে হত্যা করেছে, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে, লাখো মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে—সেসব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো। নির্বাচনের আগে আমরা জাতিকে দেয়া সেই ওয়াদা পূরণ করেছি। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর যুদ্ধাপরাধী বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে আমরা প্রথম রায় পেয়েছি। ইনশাল্লাহ সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই। বৃহত্তর খুলনার উন্নয়নে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে এ অঞ্চলের প্রাণ মংলা বন্দরকে বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় এসে তা আবার চালু করেছি, মংলা বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে নিতে নিজস্ব ড্রেজার কিনেছি। বিএনপি ক্ষমতায় থেকে খুলনার সকল পাটকল বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় এসে সব বন্ধকৃত পাটকল আবার চালু করেছি। খুলনা মহানগরীর উন্নয়নে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছি। মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন তিনটি থানা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও নতুন আইটি ভিলেজ তৈরি করবো। টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট গড়ে তুলবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মী গিয়ে দুর্বিষহ কষ্ট ও নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে, সেখানে কর্মী পাঠানো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় এসে মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে বসবাসরত ২ লাখ ৪৮ হাজার বাংলাদেশিকে মালয়েশিয়া সরকার বৈধতা দিয়েছে। এখন মাত্র ৪০ হাজার টাকা ব্যয় করে সরকারিভাবে মানুষ মালয়েশিয়া যেতে পারবে। তিনি বলেন, মাত্র চার বছরে আমরা ২০ লাখ জনশক্তি বিদেশে প্রেরণ করেছি। প্রায় সাড়ে চার লাখ বেকারের সরকারি চাকরি এবং সরকারি-বেসরকারিভাবে প্রায় ৭৮ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। অতীতে কোনো সরকার তা পারেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তুলছি। গত নির্বাচনে দেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল বলেই আমরা মায়ানমারের সঙ্গে আইনি লড়াই করে গভীর সমুদ্রে এক লাখ ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেছি। ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে করা আমাদের মামলার রায় হবে। ইনশাল্লাহ সেখানেও বিজয়ী হয়ে আমরা আরও বিশাল অঞ্চলে সমুদ্র বিজয় করবো। ২০২১ সালের মধ্যেই দেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নয়ন-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবোই। বিশাল জনসমুদ্রে নির্বাচনী শোডাউন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে উত্তাল জনসমুদ্রের উন্মাদনায় খুলনা মহানগরী যেন মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। সার্কিট হাউস ময়দান ছাপিয়ে গোটা শহর জুড়ে জনতার অবিস্মরণীয় ঢল নামে। শহর জুড়ে উত্সবের এমন রূপ খুলনার ইতিহাসে নজিরবিহীন। আনন্দ আর নির্বাচনী মেজাজের সাথে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে খুলনা শহর একেবারেই নতুন এক রূপে আবির্ভূত হয় গতকাল বৃহস্পতিবার। প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে সকাল নয়টার পর থেকেই শহরমুখী মানুষের ঢল নামে। সকাল থেকেই বঙ্গবন্ধুর সেই ৬ মার্চের ভাষণ শুনে রাস্তায় চলাচলকারী লোকজন থমকে দাঁড়ায়। খুলনা মহানগরীর ৫টি থানসহ খুলনার ৯টি উপজেলা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরাসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার শত শত জনতা ও নেতাকর্মী খুলনায় জড়ো হন শেখ হাসিনাকে একনজর দেখতে আর তার কথা শুনতে। শহরের প্রবেশদ্বার ক্যান্টনমেন্টের সীমানা থেকে শুরু করে শিরোমনি, ফুলবাড়ি গেট, দৌলতপুর ও নতুন রাস্তার মোড়, রূপসা ব্রিজ, জিরো পয়েন্ট, গল্লামারির মোড় এবং নিরালায় পুলিশ ব্যারিকেডে আটকা পড়ে শত শত বাস-ট্রাক, পিকআপ, নসিমন-করিমন ও আলমসাধু। দীর্ঘক্ষণ পায়ে হেঁটে মানুষ রওনা হয় সার্কিট হাউস মাঠে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে শ্লোগানের গগনবিদারী আওয়াজে শত শত মিছিল এগিয়ে যায় সার্কিট হাউস ময়দান অভিমুখে। ব্যানার ছাড়াও তারা বহন করে জাতীয় পতাকা, নৌকা প্রতীক আর যুদ্ধাপরাধীদের বিদ্রূপাত্মক প্রতিকৃতি। বেলা ১২টার পরপরই সার্কিট হাউস ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেলে অন্যদের ঠিকানা হয় আশপাশের রাস্তায়, আবার কারো মাঠ সংলগ্ন বিভিন্ন বাড়ির ছাদে। ক্ষমতায় আসার পর চার বছরের মাথায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুলনায় এটি তৃতীয় সফর। গত নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে শুধু সদর আসন ছাড়া বাকি ৩৫টিতেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হন। বিজয়ী সংসদ সদস্য এবং আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শোডাউন ছিল দেখার মতো। প্রধানমন্ত্রী বিকাল সাড়ে তিনটায় জনসভাস্থলে পৌঁছালে লাখো মানুষ শ্লোগানে শ্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় উপচে পড়া জনসমুদ্রে হাত নেড়ে অভিনন্দনের জবাব দেন। পথে পথে অসংখ্য তোরণ আর ডিজিটাল ব্যানার টানিয়ে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরু হয়। খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আফম রুহুল হক, শেখ হেলাল এমপি, আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, শেখ হারুনুর রশিদ, ডা. মোজাম্মেল হোসেন এমপি, এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা, মোল্লা জালাল উদ্দিন এমপি, সোহরাব আলী ছানা এমপি, ননী গোপাল মণ্ডল এমপি, সুভাষ বোস, ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা এমপি, এস এম কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শেখর, নজরুল ইসলাম, মাহবুবুল আলম হিরণ, অসিত বরণ বিশ্বাস, ছাত্রলীগ সভাপতি এস এম বদিউজ্জামান সোহাগ প্রমুখ। এ সময় মঞ্চে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বর্তমান মেয়র তালুকদার আবদুল খালেককে আবারও বিজয়ী করার জন্য খুলনাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আওয়ামী লীগ সরকারের সন্ত্রাস দমনের কথা উল্লেখ করে বলেন, একটি গুলি বা ক্রসফায়ার না করেই শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদ সিকদারসহ সব সন্ত্রাসীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করেছিলাম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়ায় সারাদেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেও খালেদা ম্যাডাম কোনো কথা বলেন না। কারণ জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কোনো পার্থক্য নেই, খালেদা জিয়া ও গোলাম আযমের মধ্যেও কোনো পার্থক্য নেই। যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আগামী ফেব্রুয়ারি থেকেই দক্ষিণাঞ্চল-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি বহুল আলোচিত পদ্মা সেতুর মূল কাজ শুরু হবে বলে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সারা খুলনায় শেখ হাসিনার পক্ষে সাগরের মতোই মানুষের ঢেউ নেমেছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসেই মূল সেতু নির্মাণের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে সুখবর দেবেন ইনশাল্লাহ। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আগামী নির্বাচনে আবারও শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করার জন্য খুলনাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশকে যদি সন্ত্রাস-দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদমুক্ত দেখতে চান, উন্নয়ন-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা দেখতে চান- তবে আগামী নির্বাচনেও রাজাকার-আলবদর-স্বাধীনতা বিরোধী ও তাদের দোসর খালেদা জিয়াকে ‘না’ বলুন, শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করুন। যুদ্ধজাহাজ পদ্মার কমিশন খুলনা অফিস থেকে রেজাউল করিম জানান, নৌবাহিনীর জন্য বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম যুদ্ধজাহাজ ‘পদ্মা’র কমিশনিং করে জাতীয় স্বার্থে নৌবাহিনীকে বাংলাদেশের জলসীমায় যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সীমিত সম্পদ দিয়ে নৌবাহিনীর মতো একটি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যয়বহুল বাহিনীকে যুগোপযোগী করতে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনায় নৌবাহিনীর ঘাঁটি তিতুমীরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবনির্মিত জাহাজটি ‘বানৌজা পদ্মা’ হিসেবে কমিশন করে বাংলাদেশ নৌবহরে সংযোজন করার সময় তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাহাজের অধিনায়ক লে. কমান্ডার শফিউল আজম পিএসসির কাছে কমিশন ফরমান হস্তান্তর করেন। বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম এই যুদ্ধজাহাজ পদ্মা ৫০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং সাড়ে সাত মিটার প্রস্থের পরিসরবিশিষ্ট। এটি ঘন্টায় প্রায় ২৪ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম। প্রতিপক্ষের ভূমি ও আকাশ পথে আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য এটিতে চারটি ৩৭ মিলিমিটার এবং দুটি ২০ মিলিমিটার কামান সংযোজিত আছে। এছাড়া জাহাজটি শত্রুর অনুপ্রবেশরোধে সমুদ্র ও নদী পথে কার্যকরভাবে মাইন স্থাপন করতে সক্ষম। শান্তিকালীন সময়ে জাহাজটি খুলনা নৌ-কমান্ডের অধীনে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় সুন্দরবন এলাকা ও সংশ্লিষ্ট সমুদ্র এলাকায় নিরাপত্তা টহল কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকবে।