ভোটার হতে গিয়ে ভোগান্তি

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৬
ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে গিয়ে অনেক নারী-পুরুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা বলেছেন, ভোটার হতে নির্বাচন অফিসে বার বার ধরনা দিয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছি, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া। নাগরিকরা চাইলে যে কোন সময়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। এটিই আইনের বিধান। কিন্তু থানা নির্বাচন অফিস থেকে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শেষ হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে তারা হালনাগাদ কাজ চূড়ান্ত করা নিয়ে ব্যস্ত। থানা অফিস ভোটার হতে ইচ্ছুকদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরণে বার বার তারিখ দেয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে গিয়েও ভোটার হতে পারছেন না। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে একজন থানা নির্বাচন কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। গত ১০ মার্চ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে পর্যায়ক্রমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলে। গত ১ জানুয়ারি পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি ছিল তাদেরকেও এবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরপরেও প্রচারণা, নানা অব্যবস্থাপনার কারণে হাজার হাজার ব্যক্তি ভোটার হতে পারেননি। এ জন্য ভোটার হতে প্রতিনিয়ত তারা ধরনা দিচ্ছেন আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসগুলোতে। ঢাকা জেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে ভোটারদের চরম ভোগান্তির চিত্র পাওয়া যায়। গতকাল এক বৃদ্ধ মা তার মেয়ে মেরিনা জামান শুভ্রকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করাতে এসে তিক্ত অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, তাদের সাথে এক নির্বাচন কর্মকর্তা দুর্ব্যবহার করেন। শামিমা নামে এক নারী নতুন ভোটার হওয়ার জন্য গত শনি ও রবিবার সারাদিন অপেক্ষা করেও ভোটার হতে পারেননি। তাই গতকাল সকাল থেকে ছোট বাচ্চাকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ছবি তোলার জন্য। এ ব্যাপারে ঢাকা জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা শাহ আলম ইত্তেফাককে বলেন, হালনাগাদে কেউ বাদ পড়লে জরুরি প্রয়োজনে তাকে ভোটার করা হচ্ছে। তবে হালনাগাদের কারণে স্বাভাবিকভাবে ভোটার করার প্রক্রিয়াটি বন্ধ আছে। আগামী ২৬ জানুয়ারির পর কেউ নতুন ভোটার হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিশেষ করে জন্ম সনদ, বাসার হোল্ডিং নম্বর, সার্টিফিকেট এনে ভোটার হতে পারবে। কমিশন সূত্র বলছে, সাধারণভাবে ভোটার হওয়াটা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। বর্তমানে সাধারণভাবে প্রবাসীরা সহজেই ভোটার হতে পারছেন। যারা হালনাগাদে ভোটার হতে পারেননি তাদের ক্ষেত্রে স্ব স্ব থানা অফিস থেকে ভোটার ফরম পূরণ করতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জেলা অফিস থেকে অনুমতির পর ছবি তোলার জন্য আগারগাঁও ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনের ৭ তলায় প্রকল্পে আসতে হবে। তবে এটা অত্যন্ত দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এ জন্য ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নতুন ভোটারযোগ্যদের। সম্প্রতি ভোটার হওয়া নিয়ে ঢাকা জেলা নির্বাচন অফিসে এসে বাক-বিতণ্ডে জড়িয়ে পড়েন সরকারের এক প্রভাবশালী উপদেষ্টার আত্মীয়। পরে শাস্তিস্বরূপ ওই কর্মকর্তাকে বরিশালে বদলি করা হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে কমিশনে। অবশ্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের (ইসি) সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেছেন, ঢাকা জেলা অফিসে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। নতুন ভোটারের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন ভোটারদের ভোটার করার ব্যাপারে খুব সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ভোটার হওয়ার যোগ্য কারো সাথে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী খারাপ আচরণ করে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খসড়া ভোটার তালিকা সম্পর্কে দাবি, আপত্তি ও সংশোধন আগামী ২৬ জানুয়ারি নিষ্পত্তি করা হবে। ৩১ জানুয়ারি প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।