জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রণব

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৮
দিল্লিতে গণধর্ষণের ঘটনায় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সত্যিকার অর্থে কি ‘নতুন ভারত’ এর প্রতিনিধিত্ব করছেন? নাকি মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন? শুক্রবার প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে দেয়া ভাষণের বেশিরভাগ সময়ই তিনি গণধর্ষণের শিকার ওই মেডিক্যাল ছাত্রীর কথা বলেন। মেয়েটির মৃত্যুতে তিনি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনা আমাদের গোটা দেশের মান-সম্মানকে ধূলিসাত্ করেছে। তাই সময় এসেছে এখনই এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। পাশাপাশি তার ভাষণে রয়েছে প্রতিবেশী পাকিস্তানের প্রতি সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, আমরা বন্ধুত্ব চাই। কিন্তু একে কেউ দুর্বলতা বলে ভাবলে ভুল করবেন।—খবর আল জাজিরা ও পিটিআই’র। প্রণব মুখোপাধ্যায় মেয়েটির প্রসঙ্গ টেনে আবারো বলেন, যেভাবে নারকীয় অত্যাচারের শিকার হয়েছে সে, যেভাবে একটা জীবন শেষ হয়ে গেল, একটা স্বপ্ন হারিয়ে গেল, এরপর যদি প্রতিবাদে সামিল হয় যুব সমাজ, সেজন্য কি তাদের দায়ী করা যায়? তিনি বলেন, নতুন যে ভারত উঠে আসছে, দেশের পরিষদীয় ব্যবস্থা তার চাহিদা, আকাঙ্ক্ষা পূরণে সত্যিই সক্ষম কিনা তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। তিনি বলেন, সবার আগে জনপ্রতিনিধিদের মানুষের আস্থা ফিরে পেতে হবে। তারুণ্যের ক্ষোভ, অস্থিরতা ও উত্কণ্ঠাকে চালিত করতে হবে ইতিবাচক দিকে। তিনি বলেন, দুর্নীতি কি আমাদের নৈতিকতাকে গ্রাস করে ফেলেছে? তিনি বলেন, সেদিনের সেই বর্বর ঘটনা আমাদের কোনভাবেই স্থির থাকতে দিচ্ছে না। নতুন ভারত ঠিক যেমন হতে চায়, সেই ছাত্রী ছিল তারই প্রতীক। তাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুন আমাদের মনকে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছে। আমরা শুধু একটা প্রাণ হারাইনি, হারিয়েছি একটা স্বপ্নকে। ভারতে যে আইনের শাসন রয়েছে তা স্বীকার করে তিনি বলেন, তার উপরেও রয়েছে নারীর সম্মানরক্ষার সংকল্প, যার অন্য নাম ভারতীয় সভ্যতা।