পাবনা মহাসড়কে ডাকাত আতংক

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪৫
পাবনা-বগুড়া মহাসড়কের কাশীনাথপুর থেকে বাঘাবাড়ী পর্যন্ত অংশে প্রায়ই ডাকাতির ঘটনা ঘটে চলেছে। ডাকাতিকালে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারানোয় গত ৫ বছরে এই অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত ও অসংখ্য আহত হয়েছেন। ১৪ জানুয়ারি গভীর রাতে মহাসড়কের বৃন্নাদাইড় নামক স্থানে ডাকাতিকালে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হওয়ার পর থেকে আতংক চরম সীমায় পৌঁছেছে। কাশীনাথপুর থেকে বাঘাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশ পাবনার বেড়া, সাঁথিয়া ও সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর থানার অন্তর্ভুক্ত। এই অংশের বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ ডাকাতেরা রাতেরবেলায় গাছের গুঁড়ি অথবা খড়ের বোঝা রেখে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন থামা মাত্রই সড়কের পাশে ওত পেতে থাকা ডাকাতদল সেগুলোতে হামলা চালিয়ে লুটে নিচ্ছে যাত্রীদের সর্বস্ব। এছাড়া কখনও কখনও ডাকাতরা যাত্রীবেশেও বাসে ডাকাতি করছে। যানবাহনের শ্রমিক ও যাত্রীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি হলেও সমপ্রতি ডাকাতির ঘটনা বেড়ে গেছে। তবে শাহাজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, ‘সেখানে ডাকাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি। ঘন কুয়াশায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক সিএনজিটিকে চাপা দিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেখানে নিয়মিত পুলিশী টহলের ব্যবস্থা রয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সেখানে পৌঁছায়।’ পাবনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি রইসউদ্দিন বলেন, ‘কাশীনাথপুর থেকে বাঘাবাড়ী পর্যন্ত অংশ যানবাহনের শ্রমিক ও যাত্রীদের কাছে মূর্তিমান আতংক। ডাকাতি রোধে পুলিশী টহল আরো বাড়ানোর পাশাপাশি এই অংশে একাধিক স্থায়ী চেকপোস্ট অথবা পুলিশ ফাঁড়ি বসানো দরকার। বেড়া-সাঁথিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) খান মোহাম্মদ আবু নাসের বলেন, ‘মহাসড়কে ডাকাতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাটগাড়িতে স্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া আমার সার্কেলের আওতাভুক্ত অংশে পুলিশের তিনটি টহল দল রেখেছি। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে মহাসড়ক এখন ডাকাতমুক্ত।’