বাংলাদেশের বিশিষ্ট সমাজকর্মী ঝর্ণাধারা চৌধুরী ভারতের মর্যাদাপূর্ণ ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কার পেয়েছেন। ভারতের ৬৪তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে এ পুরস্কারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
ঝর্ণাধারা চৌধুরী ১৯৩৮ সালের ১৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানায় জন্মগ্রহণ করেন। সমাজ ও মানব সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে বিয়ে করেননি তিনি। সামপ্রদায়িক দাঙ্গার কারণে মানুষের মাঝে সংঘাত বেড়ে গেছে দেখে বিচলিত হয়ে একসময় যোগ দেন গান্ধীর অহিংস মতবাদে। গান্ধীর মতবাদকে বাস্তবায়িত করতে গান্ধী আশ্রমের সমাজকর্মী হিসেবে ছুটে চলেন গ্রাম থেকে গ্রামে।
এবছর ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য ঝর্ণাধারা চৌধুরীসহ ৬ বিদেশিকে এ সম্মাননা জানালো ভারত সরকার। শুক্রবার সন্ধ্যায় ভারত সরকার ৬ বিদেশিসহ ১০৮ জন ‘পদ্ম’ পুরস্কার প্রাপকের তালিকা প্রকাশ করে।
এরমধ্যে পদ্মবিভূষণ পেয়েছেন ৪ জন, পদ্মভূষণ ২৪ জন, ৮০ জন পেয়েছেন পদ্মশ্রী সম্মাননা। প্রাপকদের মধ্যে ২৪ জন মহিলা ।
পদ্ম বিভূষণ পেয়েছেন উড়িষ্যার ভাস্কর রঘুনাথ মহাপাত্র, দিল্লির চিত্রশিল্পী এস হায়দার রাজা, পদার্থবিদ যশোপাল ও মহাকাশ বিজ্ঞানী রোদ্দাম নরসিমহা।
পদ্মভূষণ প্রাপকদের মধ্যে মরণোত্তর পুরস্কার লাভ করেছেন চলচ্চিত্র তারকা রাজেশ খান্না ও গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো কৌতুক অভিনেতা যশপাল ভাট্টি। এ তালিকায় আরও রয়েছেন শর্মিলা ঠাকুর, রাহুল দ্রাবিড়, বক্সার মেরিকম, ধ্রুপদী সঙ্গীতশিল্পী রশীদ খান, গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক, শিল্পপতি আদি গোদরেজ।
অন্যদিকে গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক বর্তমানে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। ২০১২ সালে শিল্প ও দর্শনের জন্য কিয়েটো পুরস্কার লাভ করেন। তিনি বোলপুরে অনাথ ও দুস্থ শিশুদের জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা করেন।
পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন চলচ্চিত্র জগতের শ্রীদেবী, নানা পাটেকর ও রমেশ সিপ্পি, ফ্যাশন ডিজাইনার রিতু কুমার, কুস্তিগীর যোগেশ্বর দত্ত, পর্বতারোহী প্রেমলতা আগারওয়াল, লন্ডন অলিম্পিকের রৌপ্যজয়ী শ্যুটার বিজয় কুমার।
ঝর্ণাধারা চৌধুরী প্রথম বাংলাদেশি নাগরিক যিনি পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হলেন। আগামী মার্চ বা এপ্রিল মাসে নয়াদিল্লীতে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জী আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।
