প্র জ ন্মে র এ ক জ ন

মেগা নিয়ে এলেন কিম

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫৬
কিম ডটকম, সেই বড়লোক প্রতিষ্ঠাতা, যাকে ধরার জন্য জেমস বন্ড ছবির মতোই বিভিন্ন কায়দা-কানুনের আশ্রয় নিতে হয়েছিল পুলিশকে। সেই কিম ডটকম আবারও ফিরে এসেছেন। আর এবার তিনি এনেছেন নতুন আরেক সেবা—‘মেগা’। তার কথা লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম কিম ডটকম ছিলেন মেগাআপলোডের প্রতিষ্ঠাতা। মেগাআপলোড একটি ফাইল শেয়ারিং সার্ভিস ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র অবৈধ ফাইল হোস্টিংয়ের দায়ে এই সেবা বন্ধ করে দেয় এবং এর প্রতিষ্ঠাতা কিম ডটকমকে গ্রেফতার করে। এরপর খানিকটা রাতারাতিই তারকা হয়ে ওঠেন এই কিম। তাকে নিয়ে প্রতিনিয়তই সংবাদমাধ্যমগুলো সংবাদ প্রকাশ করতে থাকে। আদালত প্রথমে তাকে ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিলেও পরে সীমিত আকারে ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার দেয়। ফাইল শেয়ারিংয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম মেগা আপলোড নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বের এক তারকা বনে গিয়েছেন কিম ডটকম। অবৈধ ফাইল শেয়ারের অভিযোগে মেগা আপলোডকে অবৈধ ঘোষণা করা হয় গত বছরের জানুয়ারিতে। এক বছর হলো সাইটটি বন্ধ থাকলেও মেগা আপলোড আর কিম ডটকমকে নিয়ে আলোচনার কোনো কমতি ছিল না বছরজুড়ে। এর মধ্যে একাধিকবার কিম ঘোষণা দিয়েছিলেন মেগা আপলোডের বিকল্প ওয়েবসাইট তৈরির। তবে এখনও পর্যন্ত তা বাস্তবে পরিণত করতে পারেননি তিনি। এবারে অবশ্য তা বাস্তবে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন কিম। মেগা আপলোডের বিকল্প ফাইল শেয়ারিং সাইট হিসেবে এবারে কিমের নতুন সাইটের নাম শুধুই ‘মেগা’। কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সাইটটি চালু করেছেন কিম। তবে খুব দ্রুতই এ উপলক্ষে একটি বিশাল পার্টি দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন তিনি। আর নতুন এই সাইট সম্পর্কে কিম জানিয়েছেন, নতুন সাইটটি সব ধরনের আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং এটি কেউ বন্ধ করে দিতে চাইলে তা নিরর্থক হবে। কিমের ভাষায়, ‘আমাদের নতুন এই সাইট যুক্তরাষ্ট্র, হলিউড বা আর কারও জন্যই কোনো হুমকি নিয়ে আসছে না। ড্রপবক্স, বক্সনেট এবং এই ধরনের আর দশটা সাইটের মতোই আমাদের সাইটটিও সব ধরনের নিয়ম-নীতি মেনেই তৈরি করা হয়েছে। কাজেই এখানে এমন কিছু কেউ খুঁজে পাবে না, যাতে করে এর বিরুদ্ধে নামা যায়।’ সাইটটি যাত্রা শুরুর সাথে সাথেই সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি করেছেন কিম। টুইটারে এক টুইটে কিম জানান, যাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এতে যুক্ত হয়েছে আড়াই লক্ষাধিক ব্যবহারকারী। তবে এখনও পর্যন্ত সীমিত আকারে সেবা প্রদানে উপযোগী এই ‘মেগা’ সাইট। পূর্ণরূপে যাত্রা শুরু করলে তখন সকলেই এটি ব্যবহারের সুযোগ পাবে বলে জানান তিনি। কিম আরও জানান, মেগাতে থাকবে ৫০ গিগাবাইট অনলাইন স্টোরেজ বিনা মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ, যা একই ধরনের সেবাগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। আর এখানে তথ্যগুলো এনক্রিপ্টেড থাকবে এবং যারা ফাইল আপলোড করবে, তারাই এখান থেকে ফাইল ডাউনলোডের সুযোগ পাবে। ক্লাউডে ফাইল সংরক্ষণের ফলে এখান থেকে তথ্য শেয়ার করাও হবে সুবিধাজনক। মেগা জনপ্রিয়তার দিক থেকে সবাইকে ছাপিয়ে যাবে বলেই আশাবাদী কিম। মেগার এ সুবিধা নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ চমকই নিয়ে এসেছে। আর বর্তমানে প্রযুক্তি-বাজারে এ সেবা দেওয়া ড্রপবক্স ও মাইক্রোসফটের স্কাইড্রাইভের সঙ্গে মেগা বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি-বিশেষজ্ঞরা। মেগা নিয়ে কিছু কথা ম্যাশেবল জানিয়েছে, মেগাবক্স বলে ডাকা হলেও মেগা নামেই আত্মপ্রকাশ করছে সাইটটি। এটি অনেকটা মেগাআপলোডের মতোই ব্যবহারকারীদের ক্লাউড স্টোরেজ দেবে, যেখানে ফাইল এনক্রিপ্ট করে রাখা যাবে ও ক্রস-অ্যাকাউন্ট ফোল্ডার শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের অ্যাকাউন্টে অন্যের শেয়ার করা ফাইল নিয়ে আসার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়াও মেগাআপলোডে দ্রুতগতির ডাউনলোড সুবিধা পেতে হলে একটি সফটওয়্যার ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে হতো। এটি ডাউনলোড ম্যানেজার নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু নতুন ‘মেগা’-তে ব্রাউজারের মধ্যেই এই ডাউনলোড ম্যানেজার জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে, ব্যবহারকারীকে তাদের কম্পিউটারে বাড়তি কিছু ডাউনলোড বা ইন্সটল করতে হবে না। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি কিমের এই সাইটটি পথচলা শুরু করে। তবে মেগার পরিণতিও যে মেগাআপলোডের মতো হবে না তার নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তবে এমন প্রশ্নের জবাবে কিম ডটকম জানিয়েছেন, একই ঘটনা যেন আবারও না ঘটে সে লক্ষ্যেই মেগার ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। কিম ডটকম আরও জানিয়েছেন, মেগাআপলোডের তথ্য ফিরে পেতে এবং ডিজিটাল অধিকারের স্বার্থে আইনি লড়াই করে যাবেন তিনি।