জয়পুরহাটে ছয় হাজার টন সার খোলা আকাশের নিচে

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৪
জয়পুরহাট বিসিআইসির বাফার গোডাউনে জায়গা না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছে কোটি কোটি টাকার হাজার হাজার বস্তা সার। বৃষ্টি হলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বাইরে থাকা এসব সারের। তাই বিপাকে পড়েছেন বিসিআইসির জয়পুরহাট অফিসের কর্মকর্তারা। প্রতিবছর এ সময় সারের স্তূপ খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকলেও গুদাম নির্মাণের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাইরে সার পড়ে থাকার কারণে আবহাওয়াজনিত কারণে বহু বস্তা সার কেকে (দলায়) পরিণত হয়। কেক হয়ে যাওয়া সার ডিলাররা নিতে না চাইলেও বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ এ সব সার ডিলারদের নিতে বাধ্য করে। ডিলাররা একইভাবে কৃষকের কাছে এই সার গছিয়ে দেন। এই সার জমিতে দেয়ায় ফসলের উত্পাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ কারণে প্রতিবছর প্রত্যাশিত ফসলপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। বিসিআইসি জয়পুরহাটের বাফার গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ এ কে এম আবু তাহের জানান, জয়পুরহাটে বিএডিসি কর্তৃক ১৯৮২-৮৩ সালে নির্মিত দুই হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গুদামে বর্তমানে সার আছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি। কিন্তু কৃষিনির্ভর এ জেলার ৮২ হাজার হেক্টর ফসলি জমির জন্য গড়ে প্রতিবছর সার বরাদ্দ হয় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার মেট্রিক টন। অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত শুধু বোরো মৌসুমে প্রতি মাসে সার বরাদ্দ হয় ৮ থেকে ১১ হাজার মেট্রিক টন। আর এ বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে এ জেলার জন্য সার বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। পর্যাপ্ত মজুদ ব্যবস্থা এবং গুদাম না থাকায় খোলা আকাশের নিচেই ফেলে রাখা হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকার প্রায় ৬ হাজার মেট্রিক টন সার। এ ছাড়া ডিলাররা সময়মতো সার উত্তোলনও করেন না। সংশ্লিষ্ট ডিলাররা অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, প্রতিবছর একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও বিসিআইসি কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপই নেই। এ ছাড়া কৃষিনির্ভর এ জেলায় ১০ থেকে ১৫ হাজর মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার সারগুদাম নির্মাণ করা জরুরি। জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জয়পুরহাটে খোলা আকাশের নিচে সার থাকার কারণে কৃষকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।