ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের প্রবেশকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৩টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। সাত জনকে পুলিশ আটক করেছে। দিনভর শংকা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে। তবে সারাদিনেও ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় প্রকাশ্যে দেখা যায়নি ছাত্রদল নেতাদের। সরব ছিল ছাত্রলীগ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার ছাত্রদল নেতারা প্রবেশ করবেন, এমন সংবাদে রবিবার রাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হলগুলোতে রাতেই মিছিল বের করেন তারা। গতকাল সকাল আটটা থেকেই মধুর ক্যান্টিনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্নস্থানে অবস্থান নেন তারা। একইসাথে বিপুল সংখ্যক পুলিশও মোতায়েন ছিল। ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘোষণা দিলেও গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি ছাত্রদলের কোনো নেতাকে। মিছিলসহ শোডাউন দিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনে চারটি ককটেলের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে অবিস্ফোরিত অবস্থায় একটি ককটেল উদ্ধার করা হয়। দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে টিএসসি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন সড়কে দুইটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জহুরুল হক হল গেটের বিপরীত দিকে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। দুপুর ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর পেছনে ও মসজিদের সামনের দিকে চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। একই সময় কলাভবনের সামনে দুইটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের কামাল ও আমিনুল নামে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে তিন নেতার মাজার এলাকা থেকে ছাত্রদলের শহীদুল্লাহ হল শাখার সাবেক সহ-সভাপতি রয়েলকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। পরে আহত রয়েলকে তারা ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। তবে রয়েলকে মারধরের পরই ঐ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসে অনেকগুলো ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। পরিত্যক্ত ককটেলও উদ্ধার করা হয়েছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় সাতজনকে আটক করা হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মহিদুল হাসান হিরু। তিনি বলেন, পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগের বাধায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারিনি। ককটেল বিস্ফোরণ করবো কিভাবে?
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল এবং ছাত্রদল শিবিরকে নিয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে। ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক তৈরি করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বলেন, ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণ দু:খজনক। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়েছিল।
