আমার প্রিয় বই

দীপু নাম্বার টু

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:২২
ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিতে বই খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়ে গেলাম। হঠাত্ একটি বই চোখে পড়ল। বইটি বাড়িতে এনে পড়ে শেষ করলাম। বইটির অনুভূতি সম্পর্কে না লিখে আর লোভ সামলাতে পারলাম না। বইটির নাম দীপু নাম্বার টু। মুহম্মদ জাফর ইকবালের একটি কিশোর উপন্যাস। দীপু নাম্বার টু এমন এক কিশোরের গল্প যে নিজে থেকে সকল সমস্যার সমাধান করতে পারে। মানুষের সঙ্গে মিশতে পারে অনায়াসে এবং তার মনের ভিতর মনুষ্যত্ববোধ অনেক বেশি। প্রতিবছর নতুন স্কুলে ভর্তি হতে হয়। বছর বছর স্কুল বদলাতে দীপুর ভালো লাগে না। নতুন বন্ধু তৈরি করা, নতুন একটা পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়ার যন্ত্রণা দিপুর চেয়ে আর কে ভালো বোঝে? নতুন স্কুলের ক্লাসরুমের সামনে দাঁড়ানোর পর সেই অনুভূতিটা ফিরে এলো। কালো কুচকুচে অনেক মাথা, গোল গোল চোখ নিয়ে সবাই তাকিয়ে আছে। ভীষণ অসহায় লাগল দীপুর। কিন্তু প্রথম ক্লাসে যাওয়ার আগেই সবার সঙ্গে ভাব করতে সময় লাগলো না চৌকস ছেলেটির। ওর বাবাও ঠিক এমনটিই চেয়েছিলেন। ছেলেকে আর দশটা দুধ-মাখন খাওয়া ছেলের মতো বানাবেন না। ওকে গড়ে তুলবেন স্বাবলম্বী হিসাবে। যে নিজে নিজে সব কিছুকে গড়ে তুলবে এবং সবার সাথে তার সামঞ্জস্য থাকবে অন্যরকম। তারেক দীপুর বন্ধু। তারেকের মায়ের মতো পাগল মা ক্লাসের কারো হয়ত আছে। পাগল হলে কি হবে, সে তো একজন মা। দীপুকে প্রথম প্রথম ক্লাসের সবাই খারাপ ভাবতো। তারা তাকে এড়িয়ে চললেই বাঁচে। তবে ভুলটা ভেঙ্গে দেন বাবা। বাবা দীপুকে বলেন, ওর মতো বা ওর চেয়েও ছোট থাকতে আমি সিগারেট ধরেছি। তাই বলে কি আমিও খারাপ মানুষ। জীবনের নানা জটিলতায় এভাবেই দীপু বাবার সঙ্গে আলোচনা করে। বাবা নিজে মতামত দেন দীপুকে; কিন্তু চাপিয়ে দেন না, বাধ্য করেন দীপুকে। বাবার এমন মহত্ আভাস নিয়েই দীপু পথ চলে। দীপুর ভাব-ভঙ্গিমায় আমি নিজেই অবাক হয়ে যেতাম। তবু বলি, দীপুর মতো ছেলে ক’জনইবা হয় আমাদের মতো কিশোরের মাঝে। বইটি যদি কেউ পড়ে থাকে আমি নিশ্চিত খুব আনন্দ বা কিছু স্বপ্ন পাবে, যা জীবনের জন্য আলাদা কিছু। বইটি অনেক প্রিয়। জাহাঙ্গীর হোসেন বাদশাহ সদস্য নম্বর: ১৮৮২ এনায়েতপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এনায়েতপুর, সিরাজগঞ্জ।