স্টেডিয়ামে টিকেটের লাইনে দাঁড়িয়ে আছে দুই চাপাবাজ। প্রথম চাপাবাজ ভাবল শুধু শুধু দাঁড়িয়ে না থেকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দ্বিতীয় চাপাবাজের সাথে একটু আলাপ করবে। নিজের সত্যিকারের পরিচয় না দিয়ে প্রথম চাপাবাজ নিজেকে সিলেটের এক ফরেস্ট বাংলোর ডাক্তার বলে দাবি করল। দ্বিতীয় চাপাবাজও কম যায় না, সে দাবি করল সে হচ্ছে সিলেট রেঞ্জের সবচেয়ে বড় ফরেস্ট অফিসার। গল্পের এক পর্যায়ে দু’জনই যখন বুঝতে পারল যে তার সঙ্গীও চাপাবাজিতে কম যায় না তখন শুরু হলো পাল্টাপাল্টি কথা। এরই ফাঁকে বাঘ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফরেস্ট অফিসারের ভান ধরা দ্বিতীয় চাপাবাজ বলল—‘ভাই আমি জঙ্গলের কোনো জানোয়ারকেই ভয় পাই না। গত মাসে একটা বাঘ এল রাতে। আমার মশারির পাশে বাঘটাকে দেখতে পেয়ে আমি পাশের টেবিলের ওপর রাখা এক গ্ল¬াস পানি তার গায়ে ছুড়ে মারলাম। আর তাতেই বাঘটা ভয় পেয়ে একেবারে ভোঁ দৌড়।’ দ্বিতীয় চাপাবাজের কথা শেষ না হতে হতেই কথাটা লুফে নিল মিথ্যা ডাক্তার পরিচয় দেওয়া প্রথম চাপাবাজ। সে বলল, ‘এতদিনে একটা রহস্যের সমাধান হলো। আরে হয়েছিল কী, গত মাসেই আমার চেম্বারের সামনে ভোরবেলা একটা বাঘকে দেখলাম গুটিসুটি মেরে বসে থাকতে। আমি সাহস করে গায়ে হাত দিতেই দেখি ভীষণ গা গরম আর লোমগুলো পানিতে ভেজা। তারপর ওষুধ দিয়ে আমিই তো সেটাকে সারিয়ে তুললাম। আর এতদিনে বুঝলাম বাঘটার শরীর কেন ভেজা ছিল!’
