ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ঐতিহ্যগতভাবে ক্রিকেট আইনের প্রণেতা ও এর ব্যাখ্যাকর্তা সংস্থা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব বা এমসিসি। এক সময়ের ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে অভিজাত এই সংস্থাটির এতদিনের ইতিহাসে কোনো অব্রিটিশ এর সভাপতি হতে পারেননি। এই প্রথম এই অলিখিত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটতে যাচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এমসিসির নতুন সভাপতি হতে যাচ্ছেন সাবেক শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা।
গত বুধবার লর্ডসে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় সাঙ্গাকারাকে এমসিসির ভবিষ্যত্ সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন সংস্থাটির বর্তমান সভাপতি অ্যান্থনি রেফোর্ড।
এমসিসির ভবিষ্যত্ সভাপতি হওয়ার খবর পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সাঙ্গাকারা বলেছেন, ‘এমসিসির ভবিষ্যত্ সভাপতি হিসেবে মনোনীত হতে পারাটা একটা বিরাট সম্মানের ব্যাপার। আমি আগ্রহের সাথে এই ভূমিকা পালনের জন্য মুখিয়ে আছি। আমার কাছে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রিকেট ক্লাব এমসিসি। সারা বিশ্বে এই সংস্থার গ্রহণ যোগ্যতা এবং মাঠে ও মাঠের বাইরে ক্রিকেটের চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় জড়িত তারা। ২০২০ সাল ক্রিকেটের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বছর হতে যাচ্ছে; বিশেষ করে লর্ডসে। আমি রোমাঞ্চিত যে, আমি এমসিসির ভবিষ্যত্ সভাপতি হিসেবে কিছু ভূমিকা রাখতে পারবো এখানে।’
সাঙ্গাকারা এমসিসির সাথে অনেকদিন ধরেই ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত আছেন। ২০১১ সালে সাঙ্গাকারা এমসিসির ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট কাউড্রে’ বক্তৃতা প্রদান করেন। এই বক্তৃতায় তিনি গৃহযুদ্ধের ক্ষত সারিয়ে তোলায় ক্রিকেটের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে তিনি শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের অভিজ্ঞতা ও ২০০৯ সালে লাহোরে সন্ত্রাসী আক্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন।
২০১২ সালে সাঙ্গাকারাকে এমসিসির সম্মানিক আজীবন সদস্যপদ প্রদান করা হয়। ওই একই বছর তিনি এমসিসির বৈশ্বিক ক্রিকেট কমিটির সদস্য হিসেবে যোগ দেন। এখনো তিনি ওই কমিটির একজন সদস্য।
এমসিসির সাথে সাঙ্গাকারার সম্পর্ক আরো পুরোনো। ২০০২ সালে তিনি এই ক্লাবের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার হয়ে প্রথম খেলেছিলেন। এরপর ২০০৫ সালে তিনি বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে এমসিসির হয়ে ব্যাটিং করেন। সেটা ছিলো সুনামির জন্য তহবিল সংগ্রহের ম্যাচ।
এমসিসির অধীনে থাকা লর্ডসের অনার্স বোর্ডে দুই বার নাম তুলেছেন। ২০১৪ সালে তিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এখানে ১৪৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ড্র টেস্টে। এরপর একই সফরে ওয়ানডে জয়ের পথে খেলেছিলেন ১১২ রানের ইনিংস। ওয়ানডের এই ইনিংসের ফলে নতুন চালু হওয়া সীমিত ওভারের অনার্স বোর্ডেও নাম থাকছে তার।
সাঙ্গাকারা ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর থেকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার কার্যকাল চলবে। এই সময়ে লর্ডসে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে ইংল্যান্ড। এছাড়া অনুষ্ঠিত হবে শতবল ক্রিকেটের উদ্বোধনী।
