পেছনে বাজছে ঢাক-ঢোল, সামনে রোজিনা। সঙ্গে সারা গ্রামের মানুষ ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল হান্নানও ছিলেন তাদের সঙ্গে। স্কুলের আঙ্গিনায় প্রবেশ করতেই ফুল ছিটিয়ে বরণ করা হয় তাকে। রোজিনার জীবনী পাঠ্যসূচিভুক্ত হওয়ায় তাকে বৃহস্পতিবার এভাবেই সংবর্ধনা দিয়েছে পুঠিয়ার ধোপাপাড়া গ্রামের মানুষ। বেলা ১১টায় ধোপাপাড়া গার্লস স্কুল ম্যানেজিং কামিটির সভাপতি শামসুল হকের সভাপতিত্বে রোজিনাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন স্কুলের শিক্ষক হোসনে আরা, ক্রেস্ট তুলে দেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। এর আগে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাজশাহীর জেলা প্রশাসক রোজিনার বাড়িতে যান। তিনি রোজিনার মা ও বাবার সঙ্গেও কথা বলেন। রোজিনার মতো নির্যাতিত একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবনী পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত এবং তাকে নিয়ে গ্রামের মানুষের উত্সবের ঘটনাকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি রোজিনার ব্যাংক হিসাবে ১০ হাজার টাকা অনুদান এবং তাদের বাড়ি করার জন্য একটি খাস জমি বরাদ্দের ঘোষণা দেন। তাদের বর্তমান জরাজীর্ণ বাড়ি মেরামতের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে একটি প্রকল্প তৈরি করে জমা দিতে বলেন। ‘রোজিনার জীবনে অন্যরকম পাওয়া’ শিরোনামে একটি জাতীয় পত্রিকায় রোজিনার গল্প ছাপার পর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ষষ্ঠ শ্রেণির ‘কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা’ বইয়ে সেটি তুলে ধরেন। বইয়ে খবরটি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়তে এবং দলগত কাজ দেয়া হয়েছে।
