সুন্দরবন সংলগ্ন জনপদ তালা উপজেলা সদরের মধ্যমণিতে স্থাপিত ঐতিহাসিক ‘দরবার স্তম্ভ’। দরবার স্তম্ভের ইতিকথা হলো, তত্কালীন ব্রিটিশ শাসকচক্র ভারতীয়দের স্বাধীনতা আন্দোলন তথা স্বদেশীদের আন্দোলন সংগ্রামকে ভিন্নমুখী পরিচালনার হীন প্রয়াসে ১৯০৫ সালে বৃহত্তর বাংলাকে ভেঙ্গে দ্বিখণ্ডিত করার চক্রান্ত গ্রহণ করে। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা থেকে ১৯১১ সাল পর্যন্ত ৬ বছর অবধি সমগ্র বাংলাব্যাপী বঙ্গভঙ্গ বিরোধী দুর্বার আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে ওঠে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনকে আরো বেগবানসহ বাঙালি জাতিকে সংগ্রামের সপক্ষে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে ১৯০৫ সালে রচনা করেন, “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি।” অবশেষে বৃটিশ শাসকচক্র দুর্বার আন্দোলনের মুখে নিরূপায় হয়ে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়। বৃহত্তর বাংলাকে ভাগ করা হবে না, এই ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রদানে বৃটিশ শাসক চক্রের প্রতিনিধি সম্রাট পঞ্চম জজ ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর দিল্লিতে আগমন করেন। এই ঐতিহাসিক ঘোষণার সুবাদে সম্রাট পঞ্চম জজের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে ও তাঁরই অভিষেক উপলক্ষে তালার তত্কালীন রাজনৈতিক প্রাণপুরুষ রাজকুমার বসু তালার মধ্যমণিতে এই ঐতিহাসিক স্মৃতি স্মারক বিজয় স্তম্ভটি নির্মাণ করেছিলেন। শতাব্দীকালব্যাপী স্তম্ভটি আজও দাঁড়িয়ে আছে। স্তম্ভটি সরকারিভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার জন্য সাংবাদিকরা ১৯৯৫ সাল থেকে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারই ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ পুরাকীর্তি হিসেবে এটি রক্ষণাবেক্ষণসহ পরিচর্যার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে।
