বিএম কলেজ

অধ্যক্ষ বদলির প্রতিবাদে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রলীগের তালা, অগ্নিসংযোগ

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২০
সরকারি ব্রজমোহন কলেজের (বিএম) অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাসের বদলির প্রতিবাদে কলেজের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আন্দোলনের নামে বুধবার রাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাণ্ডব চালিয়েছে। বুধবার ননী গোপাল দাসকে খুলনার বিএল কলেজের অর্থনীতি বিভাগে বদলির আদেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তার স্থলাভিষিক্ত করা হয় চাখার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ শংকর দত্তকে। এ খবর সন্ধ্যায় পৌঁছার পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে। এসময় সড়ক অবরোধ করে অগ্নিসংযোগ করে যানবাহন ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল বৃহস্পতিবার পুনরায় ছাত্রলীগ কলেজের প্রত্যেকটি বিভাগ তালাবদ্ধ করে দেয়। শ্রেণীকক্ষ ও শিক্ষকদের রুম তালাবদ্ধ থাকায় গতকাল কোনো ক্লাস করতে পারেননি শিক্ষকরা। ক্যাম্পাসে দিনভর বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা দফায় দফায় কলেজের মূল গেটসহ ক্যাম্পাসে অগ্নিসংযোগ করে তাণ্ডব চালায়। অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী আতংকিত হয়ে শিক্ষকদের মতই ক্যাম্পাস ত্যাগ করে চলে যায়। তবে আবাসিক সাধারণ ছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিলসহ আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে বাধ্য করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আন্দোলনরত ছাত্রলীগ নেতারা প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাসের বদলির আদেশ বাতিলের দাবি জানান। দাবি মানা না হলে বিএম কলেজের কোনো বিভাগে ক্লাস করতে দেয়া হবে না বলে হুমকি দেয়। যতদিন বদলির আদেশ বাতিল না হবে ততদিন আন্দোলনের মাধ্যমে কলেজ অচল রাখার ঘোষণা দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এদিকে অধ্যক্ষ ড. ননী গোপাল দাসের বদলির আদেশে কর্মপরিষদ অনুসারী ছাত্রলীগের একাংশ আন্দোলন করলেও অপর অংশসহ অধিকাংশ শিক্ষার্থী খুশী। তবে ড. ননী গোপালের অনুগত শিক্ষকরা এ বদলির আদেশে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারাই ছাত্রলীগকে সাধারণ ছাত্রদের ব্যানারে আন্দোলনে নামিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আন্দোলনের সময় সেখানে কয়েকজন শিক্ষককেও উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। বিক্ষোভ চলাকালে সেখানে উপস্থিত থাকা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম ইত্তেফাককে জানান, তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে বিরত ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে অপর শিক্ষকদের সাথে ঘটনাস্থলে এসেছেন। আন্দোলনের পক্ষে তাদের ভূমিকার কথা তিনি অস্বীকার করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে আগামী রবিবারের মধ্যে খুলনার বিএল কলেজে যোগদান করতে বলা হয়েছে। ড. ননী গোপাল ২০০৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিএম কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ ড. ননী গোপাল দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলন করছে। এতে তার কোনো হাত নেই। মন্ত্রণালয় যেখানে তাকে বদলি করেছেন সেখানে তিনি যোগদান করতে প্রস্তুত। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।