রেন্টাল বিদ্যুতে বছরে ক্ষতি সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২২
চলতি অর্থ বছরে (২০১২-১৩) রেন্টাল ও কুইকরেন্টালে বিদ্যুত্ কেনায় সরকারের ক্ষতি দাঁড়াবে ৬ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে জ্বালানি, বিদ্যুত্ ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক এ তথ্য জানান। এ বি এম আশরাফউদ্দিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী সংসদকে জানান, সরকারি খাতে উত্পাদিত সাশ্রয়ী মূল্যের বিদ্যুতের কারণে নীট ভর্তুকির পরিমাণ হবে ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। প্রতিমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত ৮৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নয়টি বিদ্যুত্ কেন্দ্র সংরক্ষণ ও মেরামত শেষে চালু করা হয়েছে এবং ৬১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সাতটি বিদ্যুত্ কেন্দ্রের সংরক্ষণ ও মেরামত কাজ চলছে। একই সঙ্গে ৫ হাজার ৪৩৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৭টি বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণাধীন আছে। সংসদ সদস্য বেনজির আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের উত্পাদন ব্যয় বড় কথা নয়। কস্ট অব ইলেকট্রিসিটি ও কস্ট অব নো ইলেকট্রিসিটি -এ বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ভারত থেকে বিদ্যুত্ আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানি শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুত্ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। মহিলা সংসদ সদস্য সাধনা হালদারের প্রশ্নের জবাবে সংসদে প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারত, নেপাল, ভুটান ও মায়ানমার থেকে বিদ্যুত্ আমদানির কার্যক্রম চলছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই মো. রহমত আলীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে বিদ্যুতের উত্পাদন বাড়ে, সে কারণে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন। তবে এ মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোন পরিকল্পনা সরকারের নেই। বজলুল হক হারুনের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি ২০১৩ সালের জন্য জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণে বিপিসি মোট ৫২ লাখ মেট্রিন টন জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। চাহিদা ৫০০০ মেগাওয়াট শাম্মী আক্তারের প্রশ্নের জবাবে এনামুল হক জানান, বর্তমানে শীত মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ৫০০০ মেগাওয়াট ও উত্পাদন গড়ে ৪৮০০ মেগাওয়াট। আসন্ন সেচ ও গ্রীষ্ম মৌসুমে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ চাহিদা ৭৫০০ মেগাওয়াট ও সর্বোচ্চ উত্পাদন ৬০০০ মেগাওয়াট। এলপিজি স্বল্পতা এদিকে, মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী সংসদকে জানান, বর্তমানে দেশে বছরে তিন লাখ মেট্রিক টন এলপি গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। সরকারি এবং বেসরকারি এলপিজি প্লান্টগুলো চাহিদার মাত্র ২৩ শতাংশ পূরণ করতে পারে। দেশের সরকারি বেসরকারি মিলে মোট সাতটি এলপিজি প্লান্ট রয়েছে। তারা মোট ৯২ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি উত্পাদন করে। এর মধ্যে মংলায় একটি এবং চট্টগ্রামের কুমিরায় অপর একটি এলপিজি প্লান্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিকাল পৌনে পাঁচটায় ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।