খালেদা জিয়া দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছেন

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৭
বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন টাইমস-এ যে নিবন্ধ লিখেছেন তাকে রাষ্ট্রদোহিতার শামিল বলে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সংসদ সদস্যরা। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় তারা বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র এদেশের জনগণ রক্ষা করবে। বাইরের কোন শক্তি নয়। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আনতে পারবেন না মন্তব্য করে তারা বলেন, বারাক ওবামা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বুঝেন না। দেশের জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে খালেদা জিয়া বিদেশি শক্তির দ্বারস্থ হয়েছেন। স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশে কিভাবে নির্বাচন হবে তা এদেশের জনগণ নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেন তারা। অনির্ধারিত আলোচনার শুরু করেন আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। এটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। দেশের জনগণের ওপর আস্থা না রেখে তিনি তার দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে মার্কিন সম্পর্ক এখন অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় ভালো। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পথ আটকাতেই তিনি এসব কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। বাচ্চু রাজাকারের বিচারের রায় দেয়ার পর খালেদা জিয়া বেসামাল হয়ে পড়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের চেষ্টার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে তারা তাণ্ডব চালাচ্ছে। এর দায়দায়িত্ব খালেদা জিয়াকে নিতে হবে। আমরা এখনো সহনশীলতার পরিচয় দিচ্ছি। শেখ হাসিনা যেখানে জঙ্গিদের দমন করতে পারেন সেখানে জামায়াত-শিবিরকেও দমন করতে পারবেন। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্য দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাননি। অথচ খালেদা জিয়া একাজটি করেছেন। খালেদা জিয়া ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক টেলিফোন সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে দেশে অনাচার হচ্ছে। এ ব্যবস্থার পরিবর্তন হতে হবে। এখন তিনি আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলেছেন। মতিয়া বলেন, খালেদা জিয়া যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বব্যাংককে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে চাচ্ছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দিয়েছে। সুতরাং খালেদা জিয়ার এ কথা যুক্তরাষ্ট্র সরকার শুনবে না। এ পর্যায়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, এ ধরনের একটি লেখার যোগ্যতা খালেদা জিয়া কিভাবে অর্জন করেছেন তা আমার জানা নেই। এ লেখার মাধ্যমে তিনি চক্রান্তের বেড়াজাল উম্মোচন করেছেন। গণতন্ত্রকে নস্যাত্ করার জন্য তার যে প্রচেষ্টা তা এ লেখার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে। এতে অনেক অশিষ্ট ভাষা এসেছে। তিনি খালেদা জিয়াকে এজন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য এদেশের জনগণ যথেষ্ট। দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহারের জন্য মার্কিন সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এর চাইতে ন্যক্কারজনক ঘটনা আর হতে পারে না। আমরা কারো দয়ায় স্বাধীন হইনি। সুরঞ্জিত বলেন, খালেদা জিয়া যে নিবন্ধ লিখেছেন তাতে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ করেছেন। এটি তাকে মোকাবেলা করতে হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় ভালো। ওবামার বিশেষ কর্মসূচিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্তর্ভূক্ত আছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে বিশেষ কোন দেশের শত্রুতা নেই। অর্থনৈতিকভাবে আমরা কারো প্রতি অনুগত নই। সবার সাথে ভালো সম্পর্ক আছে। এটা আমরা রক্ষা করে চলেছি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া আমাদের পররাষ্ট্রনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন। এটা ভাবাও যায় না। কোন তথ্য ছাড়াই খালেদা জিয়া এ ধরনের লেখা লিখেছেন। দীপু মনি বলেন, আমার দেশ কিভাবে চলবে, এখানে কিভাবে নির্বাচন হবে তা এদেশের জনগণ নির্ধারণ করবে। এক্ষেত্রে বন্ধুরাষ্ট্র আমাদের পরামর্শ দিতে পারে। সংবিধানে তারা কিছু ঢুকিয়ে দিতে পারে না। এছাড়া খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা অব্যাহত না রাখতে মার্কিন সরকারকে যে অনুরোধ জানিয়েছেন তারও কঠোর সমালোচনা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সাথে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত আক্রোশ থাকতে পারে। কিন্তু দেশের অর্থনীতি এবং মানুষের উপর ন্যক্কারজনক আক্রমণের ধিক্কার জানিয়ে এ থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি আহবান জানিয়েছেন। খালেদা জিয়ার নিবন্ধ নিয়ে সংসদে অনির্ধারিতভাবে আরো আলোচনা করেন মহিলা শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শিরিন শারমিন চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (এ) মুজিবুল হক চুন্নু, আওয়ামী লীগের বেবী মওদুদ, এডভোকেট তারানা হালিম, ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পী, অপু উকিল।