নাগরিক সংহতির আলোচনাসভার বক্তারা বলেছেন, ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতন, নির্যাতনের ভয়াবহতা ও সহিংসতা রোধে শুধু শাস্তি নয়, প্রয়োজন এর পেছনের কারণ অনুসন্ধান ও কাউন্সেলিং করা। গতকাল মুক্তি ভবনে ‘নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে এই মুহূর্তে করণীয়’ শীর্ষক ঐ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিত্সা মনোবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক নাজমা খাতুন এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক কাবেরী গায়েন, আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক জহিরউদ্দিন মল্লিক।
অধ্যাপক নাজমা খাতুন বলেন, নারী পক্ষ থেকে এক গবেষণায় অংশ নিয়ে ধর্ষণ, স্ত্রী হত্যা ও অন্যান্য অপরাধে শাস্তি পাওয়া আসামিদের সাথে কথা বলে তারা জানতে পারেন আসামিরা নিজেদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তারা মনে করে তাদের রাগ হয়েছে পার্টনারকে মেরে রাগ দমন করতে হবে। অনেকে ছেলেবেলা থেকে পরিবারে নারীকে অপমানিত হতে দেখে আসছে। তাই নারীর সম্মান তাদের কাছে কোন বিষয় নয়। তাই সময় এসেছে অন্যভাবে ভেবে দেখার। তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে শাস্তিপ্রাপ্ত অপরাধীদের জন্য কোন কারাগারে কাউন্সিলর বা মনোবিজ্ঞানী নেই। কিন্তু এটির প্রয়োজন এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশে আছে।
অধ্যাপক কাবেরী গায়েন বলেন, নারী নির্যাতন বাড়ার পেছনে মিডিয়ার ভূমিকা রয়েছে বলে আমি মনে করি না। কারণ মিডিয়া একটি যন্ত্র মাত্র। মিডিয়ার পেছনের মানুষটির মানসিকতা এখানে ভূমিকা রাখে বেশি। অনেক সময় বলা হয় ধর্ষণের ক্ষেত্রে নারী নিজেই পুরুষকে প্ররোচিত করে। কিন্তু একটি পাঁচ বছরের শিশুর তো প্ররোচিত করার ক্ষমতা নেই। তাহলে সে কেন ধর্ষিত হয়?
ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বলেন, আমাদের আইনগুলো যথাযথ আছে। তবে আইনের আওতায় এনে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের সমাজে ধর্ষিতা নারী ডাক্তার, পুলিশ, আইনজীবীর কাছে কয়েকদফা ধর্ষণের বর্ণনা দিয়ে ধর্ষিত হন।
অধ্যাপক জহিরউদ্দিন মল্লিক বলেন, নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে অনেক কুসংস্কার জড়িয়ে আছে। অনেক পুরুষের চাইল্ড পেরিফিয়া (একটি রোগ) থাকে। বিদেশে এই ধরনের মানুষকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। আমাদের দেশে তেমন ব্যবস্থা নেই। তাই একই ব্যক্তি বার বার শিশু ধর্ষণে জড়িয়ে পড়ে।
শরিফুজ্জামান শরিফ বলেন, সরকারের কাছে আবেদন, নারী নির্যাতন বন্ধে আশু পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারের উচিত এই ক্ষেত্রে যারা কাজ করছেন তাদের সাথে কথা বলে করণীয় ঠিক করা।
