বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিল ‘কল্যাণ সংস্থা’টি

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩০
আড়াইহাজারে হিলফুল ফুযুল সমাজ কল্যাণ সংস্থার অবহেলার কারণে কয়েকটি এলাকায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, হিলফুল ফুযুল সমাজ কল্যাণ নামক সংস্থাটি বিশ্ব ব্যাংক, সরকারের ও তাদের নিজস্ব যৌথ অর্থায়নে গত প্রায় সাত বছর আগে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নে দুপ্তারা কাঠালিয়া পাড়ায় তাদের ‘বাংলাদেশ ওয়াটার সাপ্লাই প্রোগ্রাম প্রজেক্ট’ এর অফিস ও পানির ট্যাংক স্থাপন করে। তারা এ ইউনিয়নের ৫টি গ্রাম মনিপাড়া, তাঁতীপাড়া, দুপ্তারা পূর্বপাড়া, গীরদা, বাজবী এলাকায় ৪২০টি পরিবারের মধ্যে ভূগর্ভস্থ বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করতো। এ পরিবারগুলো মাসিক ১০০ টাকার বিনিময়ে তাদের দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি পেত। ৪২০টি পরিবারের কয়েক হাজার লোক এ পানি পান ও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করে আসছিল। এ পানি পাওয়ার কারণে এ অঞ্চলের লোকজন তাদের নলকূপগুলো তুলে ফেলে। কিন্তু গত তিন-চার মাস যাবত্ ৫টি গ্রামের বেশিরভাগ এলাকায় পানির সরবরাহ বন্ধ করে দেয় এ সংস্থাটি। মাঝে-মধ্যে নামেমাত্র পানি সরবরাহ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাঁতীপাড়ার নিয়মিত গ্রাহক মোঃ আঃ হক, আঃ রউফ, ইসমাইল, গীরদা এলাকার সাখওয়াত বাজবী পূর্বপাড়া গ্রামের কাজি আমান জানান, হিলফুল ফুযুল সমাজ কল্যাণ সংস্থাটি সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়মিত পানির বিল নিলেও তারা বর্তমানে পানি সরবরাহ একেবারে বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সংস্থাটির কর্মকর্তারা গোপনে বেশি টাকার বিনিময়ে অন্যত্র পানি বিক্রি করলেও সাধারণ গ্রাহকদের পানি দিচ্ছে না। এতে করে ঐ ৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকটে ভুগছে। তারা বিশুদ্ধ পানি না পাওয়ায় বিভিন্ন স্থান থেকে অনিরাপদ পানি এনে পান করছে। এতে ঐ এলাকার বহু লোক পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে হিলফুল ফুযুল সমাজ কল্যাণ সংস্থাটির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রফিকুল ইসলাম জানান, এলাকার বহু লোকের কাছে বিশাল অংকের পানির বিলের টাকা বকেয়া থাকায় আমরা বিদ্যুত্ বিলের টাকা পরিশোধ করতে পারছি না। তাই এ এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছি। স্থানীয় অফিসের পানির পাম্প তত্ত্বাবধায়ক (প্লাম্বার) মোঃ জাফর জানান, পানি দেয়ার পর্যাপ্ত ক্যাপাসিটি থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ না থাকায় আমি পানি দিতে পারছি না।