দুইপাশে সাজানো নকশি কাঁথা। মাঝখানে বসে তিনি আরও কাঁথা সেলাই করছেন। ক্রেতা বা দর্শনার্থী এলে তাদেরকে কাঁথা দেখান, তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর আবার সেলাইয়ে মন দেন। এভাবে নকশি কাঁথা সেলাই করেই কাটছে তার সকাল-সন্ধ্যা। আর এই নকশি কাঁথা সেলাইয়ের মাধ্যমেই এসেছে তার সংসারের স্বচ্ছলতা এবং এটা করেই তিনি কাটিয়েছেন জীবনের অধিকাংশ সময়। তিনি হোসনে আরা বেগম। বয়স প্রায় পঞ্চাশ। বাড়ি-নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের গোয়ালদি গ্রামে। সৃজনশীল নকশি কাঁথা সেলাইের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন তাকে বয়নশিল্প শাখায় ‘শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী পদক ২০১০’ প্রদান করে। হোসনে আরা তার নকশি কাঁথার নকশায় ফুটিয়ে তোলেন-ফুল-পাখি, গ্রামীণ সৌন্দর্যসহ আবহমান বাংলার রূপ-বৈচিত্র্য। নকশি কাঁথার পাশাপাশি হোসনে আরা নকশি রুমাল, নকশি কুশনকভার, নকশি বালিশকভার, নকশি টেবিলকভার, নকশি ওয়্যালমেট সেলাই করেন। এছাড়া ক্রেতারা নিজেদের পছন্দের কাঁথার ফরমায়েশ দিলেও তিনি সময় নিয়ে সেই কাঁথা সেলাই করে দেন।
