সিরিয়ার বিরোধী নেতার সঙ্গে রাশিয়া ও ইরানের বৈঠক

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৪০
রাশিয়া এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন সিরিয়ার বিরোধী জোটের নেতা মোয়াজ আল-খতিব। এর ফলে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ অবসানের চেষ্টায় এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, জাতিসংঘ ও আরব লীগের শান্তিদূত লাখদার ব্রাহিমি সিরিয়ার চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ‘শেষ অনুরোধ’ জানিয়েছেন। সিরিয়ার সরকার বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের প্রতি দৃঢ় সমর্থন দিয়ে আসছে মিত্র রাশিয়া ও ইরান। পরস্পরের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অনীহ সিরীয় পক্ষগুলোকে এই দুটি দেশই আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে পারেন বলে ধারণা করছিলেন পর্যবেক্ষকরা। শনিবার জার্মানির মিউনিখে একটি বার্ষিক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনের সময় প্রত্যাশিত বৈঠক দু’টি অনুষ্ঠিত হয়। বাশার সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি আছেন, আল-খতিব এমন ইঙ্গিত দেয়ার পরই রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভেরভ তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকের পর আল-খতিব বলেন, রাশিয়ার নির্দিষ্ট একটি দৃষ্টিভঙ্গী আছে, কিন্তু সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে আমরা আলোচনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। অনেক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন আছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি আকবর সালেহির সঙ্গে ৪৫ মিনিট বৈঠক করার পর খতিব বলেন, সিরিয়ার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে একটি সমাধান বের করার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। এ ছাড়া, সম্মেলন চলাকালে আল-খতিব আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত লাখদার ব্রাহিমির সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকের বিষয়ে আল-খতিবের বক্তব্য হলো, সম্ভাব্য সবচেয়ে কম প্রাণক্ষয় ও রক্তপাতের মাধ্যমে স্বৈরতান্ত্রিক সরকারকে হটানোর একটি উপায় বের করা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক সূত্র বলেছে, ‘সিরিয়া বিষয়ক আলোচনা গতিশীল হয়ে উঠছে, আলোচনায় ইরানও এসেছে। দেখা যাক শেষে কি হয়।’এর আগে শুক্রবার সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘ ও আরব লীগের শান্তিদূত লাখদার ব্রাহিমি চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ‘শেষ অনুরোধ’ জানিয়েছেন। সিরিয়া প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত নিরাপত্তা পরিষদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দয়া করে আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করুন।’ এদিকে, শনিবার সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী আলেপ্পোর গুরুত্বপূর্ণ শহর শেখ সেইড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার দাবি করেছে বিদ্রোহীরা। প্রায় দুই দিন টানা যুদ্ধের পর সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে দিয়ে শহরটি দখল করে নেয় তারা। জানা গেছে, এই শহরটিতে সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। এছাড়া, দেশের বড়ো একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রও শহরটি।