পূর্বাঞ্চলীয় ১৫ কারাগারের ৬৭ রক্ষী চাকরিচ্যুত

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৮
পূর্বাঞ্চলীয় ১৫ কারাগারে চাকরি লাভের জন্য আবেদনে ভুয়া ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা (এসএসসি/ দাখিল), মুক্তিযোদ্ধা ও এতিমের ভুয়া সনদপত্র দাখিল, কারাভ্যন্তরে মাদক সরবরাহ, মারামারি, বিডিআর থেকে বহিষ্কৃত, জেএমবি বন্দির চিঠি আদান-প্রদানের অভিযোগে ও বিনা অনুমতিতে চাকরিতে অনুপস্থিতির (অতিবাস) কারণে ৬৭ জন কারারক্ষীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া ভুয়া ঠিকানা ও ভুয়া সনদ ব্যবহারের কারণে কারারক্ষী পদে নির্বাচিত হয়েও নিয়োগ পায়নি ৮৮ জন আবেদনকারী। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার ক্যাম্পাসে অবস্থিত চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঐ কার্যালয়ের অধীন দুটি বিভাগে মোট ১৫টি কারাগারের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ১১টি ও সিলেট বিভাগে ৪টি কারাগার রয়েছে। এ বিষয়ে কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মো. ফজলুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, ভুয়া ঠিকানা ও সনদের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ৮৮ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ এবং বিভিন্ন অপরাধে ৬৭ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে একই ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ৫০ জন কারারক্ষীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করার কারণে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ায় তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ২৩ জানুয়ারি কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় জিডি করেছেন বলেও জানিয়েছেন। অপর একটি সূত্র জানায়, কোটা প্রথা বলবত্ থাকায় চাকরি পেতে প্রতিবন্ধকতার কারণে তারা প্রকৃত তথ্য গোপন রেখে তাদের সুবিধামতো ভিন্ন জেলার ঠিকানা ব্যবহার করে আবেদনপত্র দাখিলের মাধ্যমে চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছে। এদিকে, ১৫টি কারাগারে সুষ্ঠু অনুসন্ধান চালালে ভুয়া কাগজপত্রে নিয়োগ পাওয়া আরো কারারক্ষী তথ্য উদঘাটিত হবে বলে ওই সূত্রটি দাবি করেছে। এতে কারাগারে যে কোন সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সংঘটিত হওয়ার আশংকার কথা জানিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ এবং ভুয়া ঠিকানা দিয়ে নিয়োগ পাওয়া এ ধরনের কারারক্ষীরা কোন অবৈধ বা ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িত হয়ে পড়লেও তাদেরকে সনাক্ত করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে বেকায়দায় পড়তে হবে বলে সূত্র জানায়। উল্লেখ্য, এসব কারারক্ষীদের চাকরিচ্যুত করার পর কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ফজলুর রহমানকে গত বৃহস্পতিবার রংপুর বিভাগে বদলি করা হয়েছে।