ঢাকা-ওয়াশিংটন সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংলাপে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিশেষত এতে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং সম্পৃক্ততা কীভাবে আরো বৃদ্ধি করা যায়, দুই দেশের সামরিক বাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা সহায়তা, প্রতিরক্ষা বাণিজ্য, সন্ত্রাস ও সহিংস চরমপন্থা দমন, চলমান রোহিঙ্গা সংকটের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক ও আন্তঃসীমান্ত ইস্যু, মুক্ত এবং অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক-এর লক্ষ্য (ভিশন) এবং মানবিক নিরাপত্তা ইত্যাদি স্থান পায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়। এতে বলা হয়েছে, সংলাপে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সৈন্য প্রেরণকারী জাতি হিসেবে বাংলাদেশের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে মার্কিন প্রতিনিধি দল। একই সঙ্গে তারা জোর দেয় বিশ্বের যে কোনো স্থানে জরুরি শান্তিরক্ষী প্রেরণের সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় নিয়ে ২০১২ সাল থেকে অল্টারনেটিভ ভেন্যুতে বাত্সরিক ওই সংলাপ হয়ে আসছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় ছিল এর সপ্তম আসর।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দল বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ, তথ্য বিনিময়, আধুনিক সরঞ্জাম ও যৌথ অনুশীলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তাছাড়া ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে পুনরায় বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াই জোরদার করার পাশাপাশি বেসামরিক লোকজনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংলাপে উভয় পক্ষ সম্মত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের তরফে যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বিদ্যমান থাকার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরতের অনুরোধ জানায়।
সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পলিটিক্যাল অ্যান্ড মিলিটারি ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত উপ-সহকারী মন্ত্রী মাইকেল মিলার। পররাষ্ট্র দপ্তরের সংশ্লিষ্ট ব্যুরো ও বিভাগের আরো ৬ জন প্রতিনিধি ছাড়াও ঢাকা থেকে যোগ দেন মার্কিন দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের পক্ষে সংলাপে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমেরিকাস অণুবিভাগের মহাপরিচালক ফেরদৌসি শাহরিয়ার। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসের উপ-প্রধান মাহবুব হাসান সালেহসহ বাংলাদেশের সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারাও প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
