দেশের বৃহত্তম বদ্ধ জলাভূমি ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের বড়বিলা বিল দখলকারীদের জবরদখলে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। যে যার মতো বিলের জমি জবরদখল করে ফসলি জমি তৈরি করছে। এদিকে ৩ বছরের জন্য ইজারা নিয়ে ইজারাদার সরকারিভাবে খনন করা ৩টি পুকুরের পাড় কেটে নিজের পুকুরের সাথে এক করে ফেলেছেন। স্থানীয় প্রশাসন জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।
উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের বড়বিলা বিলের আয়তন ৩শ ২৬ একর। দেশের বৃহত্তম বদ্ধ জলাভূমি এক সময় জাল যার জলা তার এ নীতির উপর ভরসা করে শত শত জেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। ৩ বছর আগে বিলটি ইজারা দেয়ায় স্থানীয় শত শত জেলে তাদের পৈত্রিক পেশা ছেড়ে এখন ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। তাদের মধ্যে অনেকেই এখন ভিক্ষুক। ৩ বছর আগে ৬৮ জন সদস্যের ফুলবাড়িয়া মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি বিলটি ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকায় ইজারা নেয়। এর সভাপতি হলেন রুস্তম আলী। ৩০ চৈত্র শেষ হবে তার ইজারার মেয়াদ। ২০০৪ সালের দিকে স্থানীয় মত্স্য বিভাগ স্থানীয় জেলেদের দিয়ে বিলে মাছ চাষ করার জন্য ৩টি রেণু তৈরির পুকুর খনন করেছিল ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে। সেইসাথে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি টিনসেড ঘর। অযত্ন-অবহেলায় ঘরটির দরজা-জানালা ভেঙ্গে গেছে অনেক আগেই। নলকূপটির কোন হদিস নেই। বর্তমানে বিল ইজারা নেয়া রুস্তম আলী সরকারি টাকায় খনন করা ৩টি পুকুরের পাড় কেটে নিজের পুকুরের সাথে এক করে ফেলেছেন। এ ব্যাপারে ইজারাদার রুস্তম আলী জানান, সরকারিভাবে সে সময় তার জমিতে ৩টি পুকুর খনন করা হয়েছিল। এ কারণে পুকুর ৩টির পাড় কেটে তার পুকুরের সাথে এক করা হয়েছে। স্থানীয় জেলেরা বড়বিলা বিল দখলমুক্ত করে মেস্যর নিরাপদ অভয়াশ্রম তৈরির জোর দাবি জানিয়েছেন।
