কটন মিলে অগ্নিদগ্ধ শ্রমিক মমতা

কবিরাজের তেল পড়াই ভরসা

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৬
শরীরের বেশির ভাগ দগ্ধ মমতার। দগ দগে ক্ষত দু’পা, কোমর, বুক ও পিঠ জুড়ে। ছটপট করছেন । দেহের পোড়া ক্ষতের অসহ্য যন্ত্রণায় অস্থির ঝুটকর্মী মমতা বেগম (২৮) ক্ষীণ কণ্ঠে বলেন, ‘আমারে বাঁচান। এতো যন্ত্রণা আর সইতে পারছি না। ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার বালিয়াপাড়া গ্রামে মৃত ছইন উদ্দিন মিস্ত্রির মেয়ে মমতা বেগম। তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার মাওতাইল কোনাপাড়া এলাকার ‘জামাল ঝুট এন্ড কটন’ মিলের শ্রমিক। সেখানে ৯ জানুয়ারি মিলে অগ্নিকাণ্ডে অগ্নিদগ্ধ হয়ে অর্থাভাব ও মালিক পক্ষের সহযোগিতা না পেয়ে স্বজনদের সাহায্যে গ্রামের বাড়ি এসে কবিরাজি তেল পড়ার চিকিত্সা নিচ্ছেন। বালিয়াপাড়া গ্রামে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, একটি জীর্ণ ঘরের বাইরে কাপড় দিয়ে ঘেরাও করে কলাগাছের পাতার ওপর শুয়ে রাখা হয়েছে মমতা বেগমকে। অর্থাভাবে তার চিকিত্সা চলছে স্থানীয় কবিরাজের ঝাড়-ফুঁক তেল পড়া দিয়ে। মমতার বৃদ্ধ মা রাশেদা খাতুন জানান, দেড় বছর আগে মারা গেছে মমতার স্বামী নাজির উদ্দিন। তার তিন ছেলে অপু (১০), আকাশ (৮) ও সাগর (৬) রয়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার মাওতাইল কোনাপাড়া এলাকার ‘জামাল ঝুট এন্ড কটন’ মিলের মালিক জামাল উদ্দিনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে মমতাকে তার পরিবারের লোকজন গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। সে সময় তিনি ৮ হাজার টাকা দিয়েছেন বলেন জানান। এখন তিনি মমতার চিকিত্সার ব্যয়ভার বহনে অপরগতা প্রকাশ করেন।