ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির মানববন্ধনে এবার প্রকাশ্যে বিভক্ত হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। একপক্ষ ছুড়ে মারলেন অপর পক্ষের ব্যানার। শিক্ষকদের এমন আচরণে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা হতভম্ব হয়ে পড়েন।
গতকাল সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ ঘটনা ঘটে। সকাল পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই স্থানে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে এক মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করতে উপস্থিত হন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা। গত ৩০ জানুয়ারি সমিতির সাধারণ সভায় ‘সন্ত্রাস নৈরাজ্যের প্রতিবাদে এবং ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের’ দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সকাল ১১টায় সমিতিতে আওয়ামী লীগ ও বামদল সমর্থিত নীল-গোলাপি প্যানেল থেকে নির্বাচিত সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদসহ কয়েকজন শিক্ষক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিতে মানববন্ধন লেখা সম্বলিত একটি ব্যানার নিয়ে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। একটু পরই বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত সাদা দল থেকে নির্বাচিত সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন আহমেদ আরেকটি ব্যানার নিয়ে আসেন। নীল দলের শিক্ষকদের আনা ব্যানার সরিয়ে তার আনা ব্যানারটি মানববন্ধনে ব্যবহার করতে বলেন শিক্ষকদের। এতে নীল দলের কয়েকজন শিক্ষক মামুন আহমেদের আনা ব্যানারটি কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলেন। এ ঘটনায় ঐ সময়ই প্রতিক্রিয়া জানান সাদা দলের শিক্ষকরা। তারা প্রথমে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন। পরে অবশ্য তারা মানববন্ধনে যোগ দেন।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, সমিতির গত সাধারণ সভায় সামপ্রতিক সময়ে দেশে ও ক্যাম্পাসে সৃষ্ট উত্তেজনায় অধিকাংশ শিক্ষক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাই আজ (সোমবার) ‘সন্ত্রাস নৈরাজ্যের প্রতিবাদে এবং ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের’ দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু মানববন্ধন শুরুর আগেই কয়েকজন শিক্ষক শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন লেখা সম্বলিত একটি ব্যানার নিয়ে কর্মসূচিতে দাঁড়ান। আর ব্যানার তৈরির দায়িত্বটি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার উপরই অর্পিত ছিল। তাই ঐ ব্যানারটি সরিয়ে সমিতির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমার তৈরি ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়াতে শিক্ষকদের অনুরোধ করি। কিন্তু কয়েকজন শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার ব্যানারটি ছুড়ে মারেন।
অপরদিকে, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সাধারণ সম্পাদক সমিতির নোটিস বোর্ডে দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি অন্য দুই দাবির পরে লিখেছেন। এটি প্রথমে হওয়া প্রয়োজন ছিল। তাই কয়েকজন শিক্ষক ক্ষোভ জানিয়েছেন।
