সরকার ও বিরোধী দলকে নারী নির্যাতন নিয়ে কথা বলতে হবে

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৯
প্রতিদিন খবরের কাগজ খুলেই ধর্ষণ, গণধর্ষণ,ধর্ষণের পর হত্যা , এসিড নিক্ষেপসহ নানা রকম নারী নির্যাতনের খবর দেখা যায়। ধর্ষণ যেন দেশে মহামারী আকার ধারণ করেছে। এর ছোবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না ৩ বছরের শিশুও। এ সরকার ও বিরোধী দল এই বিষয়ে কোন কথা বলছে না বলে উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীগণ। তারা দাবি করেন, সরকার ও বিরোধী দলকে নারী নির্যাতনের ইস্যুতে কথা বলতে হবে, কারণ তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি,পদ্মাসেতুর চেয়ে নারী নির্যাতন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাদের নির্বাচিত হওয়ার পেছনে অর্ধেকেরও বেশি নারী ভোটার আছেন। আর তাদের এমন দুর্দিনে সংসদদের নীরবতা হতবাক করেছে মানবাধিকার কর্মীদের। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের কাছে ৬৭টি মানবাধিকার সংগঠনের সমন্বয়ে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি আয়োজিত সমাবেশে এই দাবি করা হয়। সমাবেশ থেকে স্পিকারের কাছে এই বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়। আইন সালিশ কেন্দে র পরিচালক এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, আমরা গত সপ্তাহেও একটি স্মারকলিপি দিয়েছি, কোন প্রতিকার পাইনি। যারা আইন প্রণয়ন করেন,তাদের দায়িত্ব থাকে আইন যথাযথভাবে পালন করা হয় কিনা-তাও পর্যবেক্ষণ করা। বিরোধী দলও এই বিষয়ে সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে না। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, সংসদে সাংসদরা নানা ইস্যু নিয়ে কথা বলেন । নারী নির্যাতনকে কেন গুরুত্ব দেয়া হয় না। সমতল থেকে পাহাড়, শিশু থেকে বয়স্ক নারী কেউ আজ নিরাপদ নয়। নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, অনেক বিষয় নিয়েই সংসদে আলোচনা হয়, কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতা নারী হওয়া সত্ত্বেও নারী নির্যাতনের বিষয়টি সংসদে উপেক্ষিত। বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক এডভোকেট সালমা আলী বলেন, নির্যাতিতা নারীর ক্ষেত্রে আমাদের আইনগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ হয় না। পুলিশের তদন্তে গাফিলতি থাকে। থানা মামলা নিতে চায় না। সমাজে নির্যাতিতা নারীর বিড়ম্বনার শেষ নেই। আমরা সকলে কঠিনভাবে বলতে চাই, নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে এই অবস্থা আর মেনে নেয়া হবে না। সরকার ও বিরোধী দলকে এই অবস্থা মোকাবিলা করতে হবে। কেন হঠাত্ করে নারী নির্যাতন বেড়ে গেছে তাও অনুসন্ধান করতে হবে। নারী নির্যাতনের মামলায় অপরাধীকে শাস্তি দিতে হবে। দ্রুত বিচারের মাধ্যমেই শাস্তি নিশ্চত করতে হবে। নারী সাংবাদিক কেন্দে র সভাপতি নাসিমুন আরা মিনু বলেন, কেন আমাদের নারী নির্যাতন প্রতিরোধের এই সমাবেশে সকলে অংশ গ্রহণ করেন না । সকলের ঘরে মেয়ে আছে। যেকোন দিন যে কারোও বিপদ হতে পারে। তাই এগিয়ে এসে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। সমাবেশে ব্র্যাক, কর্মজীবী নারী, স্টেপটুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট,পাবর্ত্য চট্টগ্রাম নারী সমাজ. আমরাপারি, ইউএসপি, আইজিপি, নারী মুক্তি সংসদসহ অন্যান্য সংগঠনের নেত্রীবৃন্দও বক্তব্য রাখেন।