ট্রাইব্যুনাল ভেঙ্গে দেয়ার দাবির প্রতি বিএনপির সমর্থন নেই

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৩
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বন্ধ করা বা ট্রাইব্যুনাল ভেঙ্গে দেয়ার জামায়াতের দাবির প্রতি সমর্থন নেই বিএনপির। একথা জানিয়ে বিএনপির সমন্বয়ক ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেছেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। তবে সে বিচার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে। রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য যেন এই বিচার না হয়। গতকাল সোমবার ১৮ দলীয় জোটের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজ দলের এই অবস্থান পরিষ্কার করেন। ১৮ দলীয় জোটের ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, জোটের নেতা-কর্মীদের নামে ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আগামীকাল বুধবার সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও ও স্মারকলিপি প্রদান। ১৮ দলের পক্ষে চলতি ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তরিকুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনের পাশাপাশি আমাদের নির্বাচনেরও প্রস্তুতি রয়েছে। কারণ আমরা রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চাই, সেজন্যই আমরা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করছি। তিনি অভিযোগ করেন, এ সরকার সবসময়ই বিএনপিকে ভাঙ্গার চেষ্টা করছে। ১৯৮৬ সালের মতো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার অভিপ্রায় থেকে সরকার বিএনপিকে ভাঙার বা জোটের কাউকে কাউকে ভাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে পারে। সমুদ্র থেকে দুই-চার বালতি পানি নিয়ে গেলে যেমন কিছু হয় না, তেমনি বিএনপিরও কিছু নেতা বা জোটের দু’একটি শরিক দলকে ভাগিয়ে নিয়ে গেলে দলের ক্ষতি হবে না। তরিকুল বলেন, জামায়াত একটি পৃথক রাজনৈতিক দল। তাদের সঙ্গে বিএনপির কোনো আদর্শিক মিল নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে জামায়াতের ডাকা হরতালে আমরা নৈতিক সমর্থন দিয়েছিলাম। যেহেতু তাদের জনসভা করতে দেয়নি এজন্যই আমরা সমর্থন দিয়েছি। কারণ জনসভা করতে পারা সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল বাতিল ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের দাবির প্রতি বিএনপির সমর্থন জানানোর প্রশ্নই ওঠে না। অবশ্য ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ বলছে-এ বিচার বিতর্কিত হচ্ছে। আমরাও বলছি-বিচার স্বচ্ছ হচ্ছে না। জামায়াতকে এখন হঠাত্ করে সমাবেশ ও মিছিল করার অনুমতি দেয়া সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সমন্বয়ক বলেন, ফখরুদ্দীনের সময়েও কতিপয় নেতাকে নিয়ে বিএনপি ভাঙ্গার চেষ্টা হয়েছে। তাদের পরিণতি কী হয়েছে সবাই দেখেছে। পক্ষান্তরে তৃণমূল থেকে বিএনপি আরও সংগঠিত হয়েছে। একই প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, দেশ আজ ভালো নেই। সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। দল ভাঙার বা জোটের কাউকে কাউকে ভাগিয়ে নেয়ার চেষ্টায় সরকার কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে। সুতরাং জোট থেকে শরিক দলকে সরানোর সরকারের চেষ্টা নিয়ে আমাদের কোনো শঙ্কা নেই। জোট থেকে কেউ মহাজোটে না গিয়ে উল্টো মহাজোট থেকেও কেউ কেউ বিএনপির জোটে চলে আসতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ১৮ দলের নতুন ‘নরম’ কর্মসূচি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট তাদের চলমান আন্দোলনের অংশ হিসাবে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী ‘নরম’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগামীকাল বুধবার সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও ও স্মারকলিপি প্রদান ছাড়াও কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ সব ধরনের গুম, খুন ও অপহরণের প্রতিবাদে ১১ ফেব্রুয়ারি জেলা-উপজেলায় কালো পতাকা মিছিল, ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও ও স্মারকলিপি পেশ, মহাজোট সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদে ২৩, ২৫ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ। এসব সমাবেশে ১৮ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও বিএনপির দুটি নিজস্ব কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে তরিকুল ইসলাম জানান, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপির কাউন্সিল উপলক্ষে সব জেলায় বর্ধিত সভা হবে। আর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিএনপির নিজস্ব কর্মসূচি থাকবে। তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন এ সময়ে কয়েকটি জেলায় জনসভা করবেন।