জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ঘোষিত দণ্ডাদেশে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান না করায় ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান যৌথ বিবৃতিতে বলেন, কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনীত ৬টি অভিযোগের মধ্যে ৫টি ‘সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত’ হওয়ার পরও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনাল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শান্তি প্রদান না করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করায় দেশবাসীর সাথে আমরাও মর্মাহত, অসন্তুষ্ট ও ক্ষুব্ধ। ট্রাইব্যুনালের রায়ে যে ৫টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত বলে রায় দেয়া হয়েছে তার মধ্যে হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগও আছে। অথচ যে কোনো হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডই হলো স্বাভাবিক ন্যায়বিচার। এতগুলো প্রমাণিত হত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রদান না করাটা জনগণকে বিস্মিত ও হতাশ না করে পারেনি। দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ নরম এই দণ্ডাদেশের খবরে অসন্তুষ্ট ও হতাশ হয়েছে।
বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করা, কাদের মোল্লাসহ সকল শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীকে সর্বোচ্চ শান্তি বিধান করা এবং জামায়াত-শিবিরসহ রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবিতে বুধবার দেশব্যাপী ‘বিক্ষোভ দিবস’ পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে ট্রাইব্যুনালে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্ল¬ার সর্বোচ্চ শাস্তি না হওয়াতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাম মোর্চার নেতারা। তারা বলেছেন, এই রায়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, তিনটি মামলায় সুস্পষ্টভাবে গণহত্যার সাথে যুক্ত থাকার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও এই লঘু শাস্তি সরকারের সাথে সমঝোতার ফল কি না এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্ল¬ার রায় ঘোষণার পর গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদের সদস্য সাইফুল হক, মোশরেফা মিশু এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
