অবশেষে জামিনে মুক্তি পেলেন মির্জা ফখরুল

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩০
অবশেষে জামিনে মুক্তি পেলেন বিএনপির ভার-প্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উচ্চ আদালত থেকে সর্বশেষ মামলায় সোমবার জামিন পাওয়ায় গতকাল বিকালে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। ৫৭ দিন বন্দী থাকার পর মুক্তি পেয়ে কারাগেটে উপস্থিত সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও গুম করে আন্দোলন দমানো যাবে না। অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু হয়েছে এবং তা চলবে। রাতে তিনি গুলশানে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। ইত্তেফাকের গাজীপুর প্রতিনিধি মুজিবুর রহমান জানান, আদালতের জামিননামা গতকাল বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটে কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছায়। পরে ৪টা ৫৫ মিনিটে মির্জা ফখরুল কারাগার থেকে বের হন। মির্জা ফখরুলের স্ত্রী রাহাত আরা মির্জা, ভাই ফয়সাল আমিন মির্জাসহ পরিবারের সদস্যরা এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার মুক্তির খবর পেয়ে নেতা-কর্মী-সমর্থক কারাগারের ফটকের সামনে ভিড় জমান। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এমএ মান্নান, সাবেক এমপি সামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান উদ্দিন সরকার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, মুজিবুর রহমান, হুমায়ূন কবীর খান, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিবুন্নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক সফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের মনিরুল ইসলাম মনির ও আতাউর রহমান প্রমুখ ফখরুলকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলীয় জোটের রাজপথ অবরোধ কর্মসূচির পরদিন ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১২ ডিসেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে কাশিমপুর কারাগারে নেয়া হয়। অবরোধ কর্মসূচির দিন গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৩৭টি মামলা হয়। এসব মামলার মধ্যে গত ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ছয়টিতে মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এর মধ্যে পল্টন ও শেরেবাংলা নগর থানার দুটি মামলায় প্রথমে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পরদিন তাকে মতিঝিল ও সুত্রাপুর থানার দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। সুত্রাপুর থানার মামলায় ১৫ জানুয়ারি মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। বিভিন্ন মামলায় কয়েকবার তার রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আদালত কোনো মামলায়ই রিমান্ড মঞ্জুর করেননি। রাজধানীর কলাবাগান থানায় করা মামলায় সোমবার হাইকোর্ট তাকে ছয় মাসের জামিন দেন। এরপর তাকে মুক্তি দেয়া হল।