পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেয়ায় ভাংচুরের সময় কর্তব্যরত পাঁচ সাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। এসময় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা সঙ্গে থাকা পিস্তল দিয়ে সাংবাদিকদের গুলি করার হুমকি দেয়।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বিজ্ঞান ভবনের সামনে এই সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। লাঞ্ছিত সাংবাদিকরা হলেন, দৈনিক সকালের খবরের ফটোসাংবাদিক আজাহারউদ্দিন ও রাবি প্রতিনিধি সুজন নাজির, দৈনিক জনকণ্ঠের ফটোসাংবাদিক সেলিম জাহাঙ্গীর, ইংরেজি দৈনিক নিউএজ-এর রাবি প্রতিনিধি নাজিম মৃধা ও ডেইলি স্টার-এর রাবি প্রতিনিধি সাঈদ শুভ। ঘটনার বিবরণ দিয়ে নিউএজ-এর নাজিম মৃধা বলেন, রাবি ছাত্রলীগের উপ-পাঠাগার সম্পাদক ও পদার্থবিজ্ঞান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাসিম আহমেদ সেতু প্রথম বর্ষে পরীক্ষায় ফেল করায় সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদ আল তুহিন, মাদার বখ্শ হলের সভাপতি তানিম, সহ-সভাপতি সুদীপ্ত সালামের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ৩০/৩৫ নেতা-কর্মী মঙ্গলবার প্রথম বিজ্ঞান ভবনের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পাঁচটি কক্ষে ব্যাপক ভাংচুর করে। এ সময় ফটোসাংবাদিক ও সাংবাদিকরা পেশাগত কাজে সেখানে গেলে ছাত্রলীগ নেতা নাসিম আহমেদ সেতু ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে আসেন। অশ্লীল ভাষায় গালাগাল এবং আজাহার উদ্দীন ও সেলিম জাহাঙ্গীরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এসময় অন্যরা এগিয়ে আসলে সেতু প্যান্টের পকেট থেকে পিস্তল বের করে সকলকে গুলি করার হুমকি দেন। পরে অন্য ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা তাকে বাধা দেয় এবং দুই ফটোসাংবাদিকের ক্যামেরায় তোলা সকল ছবি মুছে ফেলে। বেগতিক দেখে সাংবাদিকরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে চলে যায়।
এ ব্যাপারে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুশফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সেতু একবার প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ ২ দশমিক ৪১ পায়। অথচ পাস করতে একজন শিক্ষার্থীকে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৫ নম্বর পেতে হয়। তাই তাকে পরবর্তী বর্ষের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয়নি। এতে তার পক্ষে ক্ষুব্ধ কিছু ছেলে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভাংচুর চালায় এবং সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করে।
সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় তাত্ক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি এক জরুরি সভায় ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। ক্যাম্পাসে ত্রাস সৃষ্টিকারী ছাত্রলীগ ক্যাডার নাসিম আহমেদ সেতুকে বহিষ্কার ও ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি জানানো হয়। রাবি ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি শিপন আহমেদ, ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক উত্সব মোসাদ্দেক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব, রাজশাহী প্রেসক্লাব, ফটোজার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশনসহ সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতাদের শাস্তির দাবি জানানো হয়। রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি আহমেদ আলী বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করা ঠিক হয়নি। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ঘটনাটি শুনেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।
