হত্যাকাণ্ডের শাস্তি হতে হবে মৃত্যুদণ্ড :একে খন্দকার

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:২৭
আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে মুক্তিযুদ্ধের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লার রায়ের প্রতিবাদে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ‘৭১ এর চেয়ারম্যান একে খন্দকার (বীর উত্তম) বলেছেন, এই রায় জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, যে অন্যায় হয়েছে হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে, তার শাস্তিও হতে হবে মৃত্যুদণ্ডের মধ্য দিয়ে। আজকের তরুণ প্রজন্মই আমাদের শক্তি। তারা জেগে উঠেছে, তাদের আন্দোলন দেখে ভালো লাগছে। তিনি এই রায় পুনর্বিবেচনা করার আহবান জানান। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে শাহবাগ কেন্দ ীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ‘৭১ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সেক্টর কমান্ডারের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার শ্লোগানে মুখরিত হয় সমাবেশ প্রাঙ্গণ। সমাবেশে ফোরামের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান কে এম শফিউল্লাহ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় গুলির আঘাতে যত না আহত হয়েছিলাম তার চেয়েও বেশি আহত হয়েছি কাদের মোল্লার বিচারের রায় শুনে। আমরা আশা করেছিলাম বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধের বিচারের সুষ্ঠুু রায় হবে। তিনি নতুন প্রজন্মের তরুণদের বলেন, আপনারা হাল ছাড়বেন না। এই কাজ নতুন প্রজন্মকেই শেষ করতে হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ কাদের মোল্লার বিচারের রায় পুনরায় না হওয়া পর্যন্ত সকলকে রাজপথে থাকার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেকে বলছেন আওয়ামী লীগ সরকার সমঝোতা করেছে। কিন্তু আমরাইতো এই বিচারকাজ শুরু করেছি, আমরা কার সঙ্গে সমঝোতা করবো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, যিনি শত শত মানুষ হত্যা করেছেন তার রায় যাবজ্জীবন আমরা মেনে নিতে পারি না। দেশের ১৬ কোটি মানুষ একটি সুষ্ঠুু রায়ের জন্য অপেক্ষা করেছিল, তা পূরণ হয়নি। কমিউনিস্ট পার্টির উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি নমনীয় হওয়ার কোন সুয়োগ নেই উল্লেখ করে বলেন, ট্রাইব্যুনালকে চ্যালেঞ্জ করেছিল জামায়াত শিবির। সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে তরুণ প্রজন্ম। গত কদিন ধরে যে লাখ লাখ তরুণ এই রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে এরা আমাদের দেশের অন্তর্নিহিত শক্তি। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তরুণ প্রজন্মের তুষার আমিন ও অয়ন, ফোরামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হারুণ হাবিব, মুক্তিযোদ্ধা লে. জেনারেল এম হারুন উর রশিদ, ঢাকা মহানগর ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম, ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ম. হামিদ, মুক্তিযোদ্ধা মনজুরুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট ড. অজয় কুমার, ফোরামের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কেয়া চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা আমীর হোসেন মোল্লা, ফোরামের নারী বিষয়ক সম্পাদক ফারহানা মজিদ প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন ঢাকা বিভাগীয় সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারি।