ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস ও সিএনজি অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. শফিকুল ইসলামসহ ৫ জন নিহত হন। গতকাল শুক্রবার সকালে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার শহিদনগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ঘাতক বাসটি পুড়িয়ে দেয়। তারা অন্যান্য গাড়িতেও ভাংচুর চালায়।
বিডিনিউজ সূত্রে নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন: অটোরিক্সা চালক দিনাজপুরের শাহ আলম (৩৫), দাউদকান্দির কাজিয়ারভাঙ্গা গ্রামের বাচ্চু মিয়া (৬০) ও তার নাতি মাহফুজুর রহমান (৬)। বাকি একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের মরদেহ দাউদকান্দি হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি সিএনজি অটোরিক্সা দাউদকান্দি যাচ্ছিল। এ সময় ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী একুশে পরিবহনের একটি বাস বেপরোয়া গতিতে যাওয়ার সময় অটোরিক্সাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া ওরফে শফিক কমান্ডারসহ ৫ জন নিহত হন। শফিক কমান্ডারের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা ঘাতক বাসটি আটকে ভাংচুর করে এবং এক পর্যায়ে বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা অন্যান্য বাসেও হামলা চালায়। পরে দাউদকান্দি সদর থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম এসে বাসটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৫ বছর পর আজ শনিবার দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শফিক কমান্ডার এর প্রস্তুতি সভায় যাচ্ছিলেন। তার মৃত্যুর সংবাদে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভুঁইয়া এমপিসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
