জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা দেশ। গতকাল ছুটির দিনেও বিভিন্ন স্থানে অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ লালনকারী বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষ, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ এবং শিশুরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাস্তায় অবস্থান নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানান। খবর ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।
খুলনা:নগরীর শিববাড়ী মোড়ে নির্দলীয় গণমঞ্চের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অবস্থান কর্মসূচি গতকাল শুক্রবারও অব্যাহত ছিল। সেখানে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে শ্লোগান, দেশাত্মবোধক গান ও কবিতা পরিবেশন করা হয়। অপরদিকে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর। বক্তৃতা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মকবুল হোসেন মিন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান, সিপিবি নেতা এইচ এম শাহাদাত্ প্রমুখ।
চট্টগ্রাম: যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের উদ্যোগে বিরতিহীন ২ দিনব্যাপী এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র মো. মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রতিবাদ সভার উদ্বোধন করেন। সভায় হাজারো মানুষের ঢল নামে। সভায় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মিছিল নিয়ে হাজার হাজার সচেতন নাগরিক ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা দেশের মধ্যে নির্যাতন করেছে তাদের অবিলম্বে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়ার দাবি জানান।
সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, নতুন প্রজন্ম আজ প্রতিবাদী হয়ে বাংলার মাটির বুকে রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে একতাবদ্ধ হয়েছে। এ প্রতিবাদের সাথে তিনি ঐকমত্য পোষণ করে সবাইকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানান।
শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, নতুন প্রজন্মের এমন ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ সত্যি জাতির স্মৃতির পটে লেখা থাকবে যুগ যুগ ধরে।
বৈশাখী টেলিভিশনের ব্যুরো চিফ বিশিষ্ট সাংবাদিক হাসান ফেরদৌসের পরিচালনায় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা গণজাগরণের গান পরিবেশন করে সমাবেশস্থল মুখরিত করে তোলেন। এ সময় ঝলসানি লাগা শ্লোগানে প্রেসক্লাব চত্বর প্রকম্পিত হয়ে উঠে। পরে টেলিভিশনের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পীরাও গান ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন।
গতকাল শুক্রবার এসএসসি পরীক্ষা থাকার কারণে সকাল বেলার কর্মসূচি বাতিল করা হয়। তবে বিকাল ৩টা থেকে যথাযথভাবে প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু হয়।
যশোর:যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ‘আমরা যশোরবাসী’র লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে কাদের মোল্লার প্রতীকী ফাঁসির মধ্য দিয়ে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির প্রথম দিন অতিবাহিত হয়। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র চিত্রা মোড়ে কাদের মোল্লার এ ফাঁসি কার্যকর করা হয়। পরদিন বিকেলে শহরের চিত্রা মোড়ে সমবেত হন যশোরের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। থেমে থেমে জ্বালাময়ী বক্তব্য, শ্লোগান, আবৃত্তি আর সঙ্গীতে চলে এ লাগাতার অবস্থান। রাজপথে ব্যঙ্গচিত্র, কার্টুন এঁকে চি?হ্নিত রাজাকার গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদ, সাকা চৌধুরীর ফাঁসির দাবি তুলে ধরা হয়। অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্যের পাশাপাশি উদীচী, পুনশ্চ, চাঁদেরহাটসহ যশোরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা দেশাত্মবোধক, প্রতিবাদী ও গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন। চলে কবিতা আবৃত্তিও।
বরিশাল:মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে অবস্থান নিয়ে ‘একাত্তর মঞ্চ বরিশাল’ নামে মঞ্চ তৈরি করে গতকাল ভোর থেকেই সমাবেশ শুরু করেন। এখানকার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ সমাবেশে জড়ো হয়ে প্রতিবাদী শ্লোগান ও দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করেন। দফায় দফায় বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে বিক্ষোভ মিছিল এসে জড়ো হয় অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে। সমাবেশে একাত্মতা পোষণ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এমপি, সেক্টর কমান্ডার ফোরামের জেলা কমান্ডার শেখ কুতুব উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল প্রগতিশীল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরাসহ সমন্বয় পরিষদের ২৭টি সংগঠন মঞ্চে প্রতিবাদী গান পরিবেশন করে। এ সময় অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরসহ পুরো সদর রোড অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। মূল সড়কের উপরেই চিত্রাংকনসহ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শ্লোগান লেখা হয়।
নরসিংদী:জেলায় সর্বস্তরের মানুষের অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সামনে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ চত্বরে অবস্থান নিয়েছেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মোতালিব পাঠানের নেতৃত্বে জেলার সকল মুক্তিযোদ্ধা। সেখানে সমাবেশে বক্তারা বলেন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পরিবর্তে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড প্রদানের রায় না আসা পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে। অপরদিকে নরসিংদী পৌরসভার সামনে ‘জাগ্রত নরসিংদীবাসী’ আয়োজিত অবস্থানও অব্যাহত রয়েছে।
রায়পুরা (নরসিংদী): যারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে কথা বলবেন তারাও যুদ্ধাপরাধী হিসাবে প্রমাণিত হবেন। বিকালে রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন আয়োজিত গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় এমপি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহম্মেদ রাজু এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বাংলার প্রতিটি উপজেলাই শাহবাগে পরিণত হবে।
সিরাজগঞ্জ: যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে জেলায় শুরু হয়েছে লাগাতার বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণসঙ্গীত পরিবেশন। গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে শহরের মুক্তির সোপান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ গণসমাবেশ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেছেন।
এদিকে কাদের মোল্লার ফাঁসিসহ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি নিশ্চিত করার দাবিতে সিরাজগঞ্জে ঘণ্টাব্যাপী মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় মহাসড়কের মুলিবাড়িতে সয়দাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এ কর্মসূচি পালন করে।
রাজশাহী ঃ মহানগরীর আলুপট্টির মোড়স্থ বঙ্গবন্ধু চত্বরে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতীকী ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এবং একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্র-জনতার অবস্থান কর্মসূচিতে এই ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এ সময় উপস্থিত নারী-পুরুষসহ হাজারো সাধারণ জনতা সমস্বরে বলতে থাকেন ‘দাবি এখন একটাই, ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই, রাজাকারদের ফাঁসি চাই, কসাই কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই।’ সন্ধ্যায় একই দাবিতে মোমবাতি প্রজ্বলন এবং মশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়।
পবিপ্রবি ঃ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীরা বিকালে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে।
মেহেরপুর ঃ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শহরে মোটরসাইকেল মিছিল, গণসংগীত, যুদ্ধাপরাধীদের কুশ পুত্তলিকা দাহ ও সমাবেশ হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঃ শহরের আব্দুল মান্নান সেন্টু মার্কেটের সামনে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে তৈরী করা হয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। প্রথম আলো বন্ধুসভা আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, সেক্টর কমান্ডার ফোরামসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ একাত্মতা ঘোষণা করেন। সন্ধ্যায় মোমবাতি জ্বালিয়ে কর্মসূচি থেকে মানবতাবিরোধী সকল অপরাধীর ফাঁসির দাবি জানানো হয়।
মাগুরা ঃ শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে প্রজন্ম ৭১ মাগুরা-এর উদ্যোগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। একই স্থানে আজ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ একই দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
সুনামগঞ্জ ঃ সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সুনামগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের তরুণরা। জেলায় বাউলদের দেশাত্মবোধক ও জাগরণের গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির শুরু হয়। কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে মিছিল নিয়ে ছুটে আসেন প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।
নীলফামারী ঃ বৃহস্পতিবার রাতে স্মৃতি অম্লান পাদদেশে মোমবাতি প্রজ্বলন আর গণজমায়েতের মাধ্যমে কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন নীলফামারীর হাজারো মানুষ।
বাগেরহাট ঃ শহরের শহীদ মিনারে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ডাকে স্বাধীনতার সপক্ষের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে।
গাইবান্ধা ঃ শহরের ডিবি রোডে উদীচী ও স্থানীয় পৌর পার্কের বিজয় স্মৃতি স্তম্ভে মুুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম লাগাতার অবস্থান ও গণজমায়েত কর্মসূচি শুরু করেছে।
সৈয়দপুর ঃ নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে সর্বস্তরের মানুষ গণজাগরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। শহরের জিআরপি মোড়ে সকাল ১১টায় এই গণজাগরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবি জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঃ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ ব্লগাররা। শহরের পৌর আধুনিক সুপার মার্কেটের সামনে সচেতন যুব সমাজের ব্যানারে এ অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বিভিন্ন সংগঠন।
নওগাঁ ঃ শহরের মুক্তির মোড়স্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তৈরী করা গণজাগরণ মঞ্চে কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে সমাবেশ হয়েছে।
সিলেট:সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে সিলেটে চলছে লাগাতার আন্দোলন। টানা তৃতীয় দিনের মতো গতকালও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে মিছিল-স্লোগানে তাদের দাবি তুলে ধরেন। পাশাপাশি চলছে জাগরণের গান। গতকাল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এডভোকেট সুলতানা কামাল শহীদ মিনারে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্মতা পোষণ করেছেন।
বগুড়া: প্রাণের জোয়ার নেমেছে বগুড়া শহরের সাতমাথা চত্বরে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি মঞ্চকে ঘিরে জনতার ঢল নামে গতকাল দুপুরের পর থেকেই। সেখানে একটাই স্লোগান যুদ্ধাপরাধী কসাই কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চাই। এই দাবিতে স্লোগানের পাশাপাশি গণসঙ্গীত, আবৃত্তি আর বক্তব্য চলে বিকেল ৩টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। সন্ধ্যায় শহরজুড়ে মশাল মিছিল হয় মঞ্চের উদ্যোগে।
শেরপুর:ঢাকার শাহবাগ চত্বরের আদলে শেরপুরে গত দুইদিন ধরে থানা মোড়ের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে ‘জাগ্রত তরুণ প্রজন্ম’ ব্যানারে তরুণরা অবস্থান নিয়েছেন। তারা কামরুজ্জামান, কাদের মোল্লা, গোলাম আজম এই মুহূর্তে বাংলা ছাড় প্রভৃতি স্লোগানে মুখর করে তুলেন অনুষ্ঠানস্থল ও আশ-পাশের এলাকা। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ): কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে সাধারণ ছাত্ররা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইলে এ অবস্থান কর্মসূচি বিকাল ৫টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে।
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ):যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে অরাজনৈতিক সংগঠন অভিযাত্রীর উদ্যোগে উপজেলায় বিজয় ৭১ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রংপুর: কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে সর্বস্তরের মানুষের বিক্ষোভের গণজোয়ারে ভাসছে রংপুর। রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পাশাপাশি গতকাল থেকে মাঠে নেমেছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। পাশে দাঁড়িয়েছেন গৃহবধূরাও। সবার দাবি ‘রাজাকারদের ফাঁসি, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই’।
সকাল থেকে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে প্রজন্ম ৭১ এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে প্রধান সড়কে সর্বস্তরের মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। মিছিলে মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। দুটি স্থানেই প্রতিবাদী গান, কবিতা পাঠ আর বক্তব্য প্রদানের মধ্যদিয়ে চলেছে অনুষ্ঠান। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবে না এমন দৃপ্ত শপথ নিয়ে প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠেছে তরুণ প্রজন্ম।
