মুন্সীগঞ্জে মেঘনায় লঞ্চডুবি অর্ধশতাধিক যাত্রী নিখোঁজ

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২৩:১৫
গজারিয়া উপজেলার ইসমানির চরের কাছে গতকাল শুক্রবার সকালে মেঘনায় এমএল সারস শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে গেছে। কিছু যাত্রী তীরে উঠতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫০ যাত্রী। হত্যভাগ্য যাত্রী প্রিন্স (১৭ মাস) ও ময়না আক্তার (২৬)সহ ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি যাত্রীদের ভাগ্যে কি হয়েছে তা জানা যায়নি। পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন খান জানান, বালুবাহী জাহাজের ধাক্কায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বালুবাহী জাহাজটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে। জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল জানান, এই ঘটনায় এডিএমকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় নিহত প্রতি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান ঘোষাণা করা হয়েছে। সন্ধ্যায় এই রিপোর্ট লেখার সময় উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম মেঘনার মাঝখান থেকে ডুবন্ত লঞ্চটিকে টেনে তীরে নিয়ে যাচ্ছিল। লঞ্চের ভেতর থেকে ফিরে আসা ডুবুরীরা জানিয়েছেন লঞ্চের ভেতরে আরো লাশ রয়েছে। তবে ছোট আকারের দেড়তলা ডুবন্ত লঞ্চে ঢোকা যচ্ছিল না। দুর্ঘটনায় কবলিত লঞ্চযাত্রী চাঁদপুরের ব্রাহ্মণচক গ্রামের সুমন (২৮) জানান, যাত্রীবাহী লঞ্চটি সকাল ৭টায় নারয়ণগঞ্জ থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে চাঁদপুরের মতলবের মাছুয়া খালের উদ্দেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে সকাল ৮টার দিকে বালুবাহী জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যায়। সকাল ১০টায় উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তুম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। এ সময় তার সাথে যোগ দেয় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বিআইডব্লিউটিএ’র ডুবুরিরা। এমভি রোস্তমের কমান্ডার বজলুল হক জানান, নদীর যে স্থানে লঞ্চটি দুর্ঘটনায় কবলিত হয়েছে সে স্থানে পানির গভীরতা থাকায় লঞ্চটি সনাক্ত করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। লঞ্চ ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ যাত্রীদের আহাজারিতে মেঘনা পাড়ের আকাশ ভারি হয়ে উঠেছে। বেঁচে আসা ফারুক (১৫) বিলাপ করে জানায়, সে তার মা নাছিমা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের মতলবে যাচ্ছিল। সে পাড়ে উঠতে পারলেও তার মা লঞ্চে রয়ে গেছেন। তার মায়ের লাশ এখনও পায়নি। একই পরিবারের নিখোঁজ ৭ জনের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার এমএল সারস লঞ্চ ডুবিতে একই পরিবারের ৭ জন নিখোঁজ হওয়ার পর বিকালে ময়না (২৫) নামের এক জনের লাশ উদ্ধার হলেও বাকী ৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। মতলবের কালীপুরা গ্রামের তাদের এক আত্মীয়ের লাশ দেখতে যাওয়ার পথে লঞ্চ ডুবিতে এ ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্চের গোদনাইল গ্রামের বিল্লাল হোসেনের নানী শাশুড়ির মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বিল্লাল হোসেন ও তার ভাই তারেক মিয়াসহ আত্মীয়-স্বজন মিলে একই পরিবারের ৯ জন মতলবের গোদনাইল কালীপুরার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সারস লঞ্চে যাওয়ার পথে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনার ইসমানির চরে লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় বিল্লাল হোসেন ও তার ভাই তারেক মিয়া সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও বাকী ৭ জন নিখোঁজ। দুপুরে ডুবুরি দল ময়না (২৫) নামের বিল্লাল হোসেনের শালিকার লাশ উদ্ধার করলেও বাকী ৬ জনের লাশ এখনো পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ময়নার বোন চায়না (২৩) ও চায়নার দুই শিশু সন্তান মীম (৭) ও সানজিদ (৫), চায়নার ভাই মুক্তার (২০), সাহনাজ (২০), তানিয়া (১৮)।