সরিষায় ‘রেস্টোরার জিন’ এর সন্ধান লাভ

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:৩৫
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনতত্ত্ব ও উদ্ভিদপ্রজনন বিভাগের গবেষণা মাঠে সমপ্রতি সরিষার রেস্টোরার জিন-এর সন্ধান পাওয়া গেছে। সরিষার অনেক প্রজাতির মধ্যে এ গবেষণায় যে প্রজাতিটি ব্যবহার করা হয়েছে তা ব্রাসিকা ন্যাপাস হিসেবে পরিচিত। সরিষার ফুল উভলিঙ্গ হওয়ায় শুধু পুরুষ উদ্ভিদ বা স্ত্রী উদ্ভিদ বলতে কোনো গাছ নেই। তবে অনেক সময় প্রাকৃতিকভাবে কিছু গাছকে পুরুষত্বহীন হতে দেখা যায়। এই গাছের ফুলে স্ত্রীলিঙ্গ সক্রিয় থাকলেও পুংলিঙ্গ নিস্ক্রিয় থাকে। এর পরাগরেণু কার্যক্ষম না হওয়ায় এ রকম হয়ে থাকে। তাই এই গাছটি স্ত্রীউদ্ভিদ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ধরনের পুরুষত্বহীন গাছ নতুনজাত উদ্ভাবনের জন্য গবেষকদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকরা এই প্রকৃতির উদ্ভিদকে ‘এ-লাইন’ নামে চিহ্নিত করেছেন। তবে এই ‘এ-লাইন’-এর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য কার্যক্ষম পরাগরেণু সমৃদ্ধ সমবৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উদ্ভিদের দরকার হয় যাকে ‘বি-লাইন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই ‘বি-লাইন’-এর পরাগরেণু দিয়ে ‘এ-লাইনকে’ পরাগায়ন করলে পুনরায় পুরুষত্বহীন গাছ পাওয়া যায়। তবে এই ‘এ-লাইনকে’ যদি রেস্টোরার জিনসমৃদ্ধ কোনো উদ্ভিদ দিয়ে পরাগায়ন করা যায় তাহলে পরবর্তী প্রজন্মে পুরুষত্বহীনতা বিলুপ্ত হয় এবং অনেকাংশে উচ্চফলনক্ষম হতে দেখা যায়। এমনই কিছু ‘এ-লাইন’ এবং সংশ্লিষ্ট ‘বি-লাইন’ ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনতত্ত্ব ও উদ্ভিদপ্রজনন বিভাগে। কিন্তু উচ্চফলনক্ষম প্রজন্ম পাওয়ার প্রত্যাশায় অনেক গবেষণা করেও কোনো সরিষায় রেস্টোরার জিন-এর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে অধ্যাপক ড. এমএ খালেক মিয়া সরিষার একটি চীনাজাত সংগ্রহ করেন এবং এই জাতটি কয়েক প্রজন্ম স্বপরাগায়ন করে একটি ইনব্রিড লাইন উদ্ভাবন করেন। গত ২০১১ সালের ডিসেম্বরে একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ গোলাম রসুলের তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষক পিসি রায় নতুনভাবে রেস্টোরার জিন-এর সন্ধানে গবেষণা শুরু করেন। তিনি ড. এমএ খালেক মিয়া প্রদত্ত এই ইনব্রিড লাইন-এর পরাগরেণু দিয়ে কয়েকটি ‘এ-লাইনকে’ পরাগায়ন করেন। চলতি বছর সেখান থেকে প্রাপ্ত প্রজন্মের পরাগরেণু গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রেস্টোরার জিনের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। সমপ্রতি জিনতত্ত্ব ও উদ্ভিদপ্রজনন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. একেএম আমিনুল ইসলাম গবেষণা মাঠ প্রদর্শন করেন এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা পরিচালক ড. এম মোফাজ্জল হোসেন বলেন, এই রেস্টোরার জিনের সন্ধান লাভ সরিষার নতুন জাত উদ্ভাবনের পথ সুগম করল। লেখক:কলামিস্ট ও পিএইচডি গবেষক, জেনেটিক্স এন্ড প্ল্লান্ট ব্রিডিং বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়