ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মুশুলি ইউপির চপই গ্রামে দু’শিশুকন্যাসহ ঢাকার এক পোশাক কারখানার নারী কর্মী স্বামীর খোঁজে এসে মারধরের শিকার হয়েছেন। নাজমা আক্তার নামের ২৫ বছরের ঐ স্ত্রীর বাবার বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার লেবুতলা গ্রামে। তার পিতার নাম সিদ্দিক খন্দকার। শুক্রবার তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের স্বামীর বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগ করছেন। চপই গ্রামের রতন খাঁর ছেলে এনায়েত হোসেন বাবু (২৫) ভালবেসে ৮ বছর আগে বিয়ে করেছিল ওই নারীকে। লামিয়া (৬) ও শারমিন (১) নামে তাদের দু’টি কন্যাসন্তান রয়েছে। তারা দু’জন রাজধানীর মিরপুর এলাকার সিএনএইড নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। বিয়ের পর তারা মিরপুরের ইলিয়াছ মোল্লার বস্তিতে (সম্প্রতি বস্তিটি আগুনে পুড়ে গেছে) বাস করতেন। সমপ্রতি তিনি স্বামীর গ্রামের বাড়িতে যেতে চাইলে স্বামী তার বাড়ির ঠিকানা,পরিবারের সদস্যদের নাম ও মুঠোফোন নম্বর দেয়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ওই নারী তার মা পারুল বেগমকে (৫০) নিয়ে এনায়েতের বাড়িতে যায়। সেখানে নিজের পরিচয় প্রকাশ করা মাত্রই তাদেরকে মারধর করে এনায়েত হোসেন বাবুর মা ও ভাই মাসুদ। সেইসাথে বাবুর মামা মুশুলি ইউপির সদস্য ছিনু মিয়া তাদেরকে হুমকি-ধমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এনায়েতের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই নারীকে বিয়ে করার কথা স্বীকার করেন। পারিবারিক সমস্যার কারণে তাকে বাড়িতে নেয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান। তিনি এখন কাঁচপুর এলাকায় একটি ক্লাবে কাজ নিয়েছেন। এনায়েতের মামা মুশুলি ইউপি সদস্য চিনু মিয়া বলেন- ওই নারীকে তিনি বলেন, এনায়েত যদি তাকে সত্যিই বিয়ে করে থাকে তাহলে স্ত্রীসহ তার সন্তানদের পরিবার মেনে নিবে। নান্দাইল মডেল থানার ওসি খন্দকার জাহিদুল ইসলামকে ঘটনাটি অবহিত করলে তিনি ওই নারীকে থানায় এনে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা গ্রহণ করেন। ওই নারী যাতে সুবিচার পায় সেজন্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান।
