মায়েদের ডায়েটিং যখন মানা

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:১১
যেসব মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান তাদের অতিরিক্ত ডায়েটিং করা উচিত নয়। এতে মায়ের বুকের দুধ হ্রাস পায়। ফলে শিশুর নিউট্রিশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তীব্র ডায়েটিং করলে শুধু মাতৃদুগ্ধদানকারী মায়ের বুকের দুধ কমে যায় তাই নয় এর চেয়েও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে শিশুর স্বাস্থ্য। ‘ব্রেস্ট ফিডিং এন্ড হিউম্যান ল্যাকটেশন’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, মা যদি পর্যাপ্ত খাদ্য শক্তি গ্রহণ না করে অথবা তীব্র ধরনের ডায়েটিং করে তবে শরীরের চর্বি বা ফ্যাটের মধ্যকার দ্রবীভূত পরিবেশ থেকে শোষিত ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ও টক্সিন মায়ের দুধে প্রবাহিত হয়। ফলে এই টক্সিন মিশ্রিত বুকের দুধ পানে শিশু অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাই কোন অবস্থাতেই স্তন্যদানকারী মায়ের তীব্র ডায়েটিং করা উচিত নয়। মাকে অবশ্যই প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫০০ কিলো ক্যালরি খাদ্য শক্তি গ্রহণ করতে হবে। তবে কেউ যদি একান্তই মাতৃদুগ্ধদানকালীন ডায়েটিং করতে চান তবে যেকোন ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিন। যাতে আপনার শরীরে ক্যালরির ঘাটতি না হয় আবার ওজনও বেড়ে না যায়। মনে রাখতে হবে চর্বিযুক্ত খাবার কম আহার করেও শরীরের প্রয়োজনীয় খাদ্য শক্তি বা ক্যালরি পাওয়া যায়। তবে একজন সাধারণ মানুষের দৈনিক ২০০০ থেকে ৩০০০ কিলো ক্যালরি খাদ্য শক্তি দরকার। আর মাতৃদুগ্ধদানকারী মায়েদের দৈনিক খাদ্য শক্তি প্রয়োজন অন্যদের চেয়ে বেশি। তাই শরীরের ওজন কমানোর নামে তীব্র ডায়েটিং করবেন না। অন্তত: স্তন্যদানকারী মায়েদের অবশ্যই পর্যাপ্ত নিউট্রিশন নিতে হবে। যাতে বুকের দুধ পর্যাপ্ত পরিমাণ তৈরি হতে পারে। মনে রাখতে হবে আপনার ছোট্ট সোনামনির রোগ প্রতিরোধ ও বেড়ে ওঠার জন্য অবশ্যই মায়ের দুধের কোন বিকল্প নেই।