তানোরে ১শ’ অগভীর নলকূপ চালু অনিশ্চিত

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩১
তানোরে স্থাপনের অনুমতির পরও বিদ্যুত্ সংযোগ না পাওয়ায় প্রায় একশ’ অগভীর নলকূপ চালু অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলা সেচ কমিটির অনুমতি সাপেক্ষে তানোর পল্লী বিদ্যুত্ কমান্ড এরিয়ায় গত বছর ৯৭টি অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। নলকূপের মালিকরা বিদ্যুত্ সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির অফিসে জমাও দিয়েছেন। চলতি মৌসুমে ঐসব নলকূপে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও এখনো বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়া হয়নি। বিদ্যুত্ সংযোগ না পেলে ডিজেল নির্ভর সেচের ক্ষেত্রে কৃষকদের শতকরা ৩০ ভাগ অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। এছাড়া বোরো আবাদে সরকার যে ২০ শতাংশ ভর্তুকির ঘোষণা দিয়েছে তা পাম্প মালিকদের পকেটে যাবে। সূত্র জানায়, তানোর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির (আরইবি) অধীনে আটশ’ এবং বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) অধীনে ১২৪টি বিদ্যুত্ চালিত গভীর-অগভীর নলকূপ রয়েছে। বিগত অর্থ বছরে উপজেলা সেচ কমিটি নতুন আরো ৯৭টি অগভীর নলকূপ স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে। কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক কেতাবুল বলেন, বিদুত্ চালিত অগভীর নলকূপে প্রতিবিঘা বোরোর জমিতে সেচের খরচ ৯০০ থেকে এক হাজার টাকায় পাওয়া যাবে। কিন্তু ডিজেল চালিত জেনারেটর পাম্পে সেচ খরচ দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকায় দাঁড়াবে। ফলে কৃষকে ৩০ শতাংশ সেচ খরচ বাড়বে। কৃষকের স্বার্থে তিনি অবিলম্বে অগভীর নলকূপে বিদ্যুত্ সংযোগের দাবি জানান। যশপুর গ্রামের অগভীর নলকূপ মালিক হাবিবুর রহমান বলেন, প্রায় এক বছর আগে প্রতিটি অগভীর নলকূপে বিদ্যুত্ সংযোগের জন্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জমা ও শর্তপূরণ করেছেন। কিন্তু পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি এখনো সংযোগ দেয়নি। অনেকে বাধ্য হয়ে ডিজেল চালিত ইঞ্জিনে অগভীর নলকূপ পরিচালনার চিন্তা করছেন। শেষ পর্যন্ত বিদ্যুত্ সংযোগ না পেলে অগভীর নলকূপ মালিকের পাশাপাশি সেচের আওতাধীন পাঁচ শতাধিক কৃষককে বোরো আবাদে বাড়তি খরচ গুণতে হবে। সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসানুল কবীর কামালী বলেন, অগভীর নলকূপ স্থাপনের অনুমোদন তারা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুত্ অফিসে পাঠিয়েছেন। কিন্তু পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি ও বিউবো কেন বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়নি তা তিনি জানেন না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুত্ অফিসে যোগাযোগ করবেন বলে জানান। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির তানোর এরিয়ার এজিএম ওবাইদুল্লাহ-আল-মাসুম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চলতি মৌসুমে বোরো চাষে নতুন বিদ্যুত্ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে স্থাপিত অগভীর নলকূপে বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়া হবে। তবে নলকূপ মালিকদের নিকট থেকে বিদ্যুত্ সংযোগ ফি’র নামে লাখ লাখ টাকা জমার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।