চট্টগ্রামে অস্বস্তিতে রাজনৈতিক নেতারা

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৫১
যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে প্রতিবাদী তরুণ-তরুণীসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতিবাদমুখর অবস্থানে প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ কিংকর্তব্য-বিমূঢ় হয়ে পড়েছেন। কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে প্রতিবাদ মুখর ক্ষুদ্র অবস্থান এখন বিশাল গণঅবস্থানে পরিণত হয়েছে। তরুণদের অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে নগরীর পথ-প্রান্তরে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেও তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন ছুটে এসে গণজাগরণে একাত্মতা প্রকাশ করছেন। গত কয়েকদিন ধরে শুধু চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে রাজাকারদের ব্যঙ্গচিত্র, কার্টুন প্রদর্শনীসহ হরেক রকমের ব্যানার। ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। নতুন প্রজন্মকে দুপুরের তাপদাহ পিচঢালা পথ থেকে সরিয়ে নিতে পারেনি। একইভাবে রাতের শীতে তরুণ-তরুণীরা ছিল আরো প্রতিবাদমুখর। জনতার এই স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণে প্রধান দুই দলের নেতারা এক প্রকার অস্বস্তিত্বে রয়েছেন। রাজনৈতিক দলের পরিচিতজনদের অনেকের ইচ্ছে থাকলেও আবার দ্বিধায় পড়ে এগুতে পারছেন না। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী গত শুক্রবার সংহতি প্রকাশ করে বক্তৃতা দিতে গেলেও শ্লোগানের মুখে বক্তৃতা শেষ না করেই ফিরে আসতে হয়েছে। জনতার জোয়ারে যুদ্ধাপরাধী বিরোধী জাগরণে শরিক হওয়ার মনোবাসনা থাকলেও অনেকে আসার সাহস পাচ্ছেন না। রাজনৈতিক দলের অনেক নেতা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। চট্টগ্রাম অফিস জানায়, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও জামালখান চত্বরে সমাবেশে গতকাল উপস্থিত হলেও বক্তব্য রাখতে পারেননি মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন। তিনি বিকালে সমাবেশস্থলে পৌঁছলে উত্তাল জনতা মুহুর্মুহু প্রতিবাদী শ্লোগানে ফেটে পড়ে। মন্ত্রী কোন কথা বলারই সুযোগ পাননি। গণজাগরণ কর্মসূচির উদ্যোক্তা সাংবাদিক নাজিমউদ্দিন শ্যামল জানান, মন্ত্রী আফসারুল আমিন প্রেসক্লাব চত্বরে উপস্থিত হলেও বক্তব্য রাখেননি। আয়োজকদের কাছে তার সংহতি প্রকাশ করে সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন।