পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় শুক্রবার দুপুরে ফণীর প্রভাবে আকস্মিক ঝড় বৃষ্টিতে উপজেলার বলেশ্বর নদ তীরের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। প্রায় ২০ মিনিটের হাল্কা ঝড়ো বৃষ্টিতে নদী তীরবর্তী সাপলেজা ইউনিয়নের ক্ষেতাছিড়া, কচুবাড়িয়া জেলে পল্লীর অন্তত ৪০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশ কিছু গাছ পালা উপরে পড়েছে। বলেশ্বর নদে অস্বাভাবিক জোয়ারে নিশ্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার ডাল ফসল ২ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষেতাছিড়া ও কচুবাড়িয়া পয়েন্টে বেড়িবাঁধ নদের প্লাবনে হুমকির মুখে রয়েছে।
বিকাল থেকে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হলে এসব এলাকার মানুষ রাতে ঝড়ের কবলে পড়ার আতঙ্কে পার্শ্ববর্তী সাইক্লোন শেল্টারে সন্ধ্যার পর থেকে ভিড় করে। এসময় ঘরবাড়ি দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন কেউ কেউ।
জানা গেছে, উপজেলার ৫৫টি সাইক্লোন শেল্টারে এখন ঝড় আতঙ্কিত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিএম সরফরাজের তত্ত্বাবধানে সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকরা বলেশ্বর নদের মাঝের চরের ১২০০ জেলে পরিবারের সদস্যদের অর্ধেক মানুষকে মাঝের চর ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ওই চরের বাকি জেলে পরিবারগুলোকে নদী পার হয়ে উলুবাড়িয়া সাইক্লোন শেল্টারে উঠিয়ে দিয়েছেন। আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত পরিবারগুলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুকনা খাবার ও সুপেয় পানি বিতরণ করছেন।
আারো পড়ুন: ফণীর কারণে ফাইনাল বাতিল, বাংলাদেশ-লাওস যৌথ চ্যাম্পিয়ন
সরেজমিনে বলেশ্বর নদের বড়মাছুয়ায় সেনাবাহিনী নির্মিত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে ৩ শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিতে দেখা যায়। শুধু এ আশ্রয় কেন্দ্রে নয় উপজেলার ৫৫টি আশ্রয় কেন্দ্র এখন দুর্যেগ কবলিত মানুষের ভিড়। অনেক পরিবার নিজের বসতি ফেলে গায়ের পাকা কোনও বাড়িতেও আশ্রয়ের জন্য ছুটছে। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে আশ্রয় কেন্দ্রে না যাওয়ায় এসব মানুষ চরম বিপন্ন হয়েছিল। এবার তারা এমন ভুল আর করতে রাজি হননি।
আরো পড়ুন: ‘ফণী’ মোকাবিলায় সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

উপজেলায় সিপিপির মোট ১হাজার ২৭৫ জন স্বেচ্ছাসেবক দুর্যোগ মোকাবেলা কমিউনিটি বেইজ কাজ করছেন।
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিএম সরফরাজ বলেন, নদী তীরের মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। সেইসঙ্গে তাদের গবাদিপশু আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদে রাখা হয়েছে। বিকেল থেকে এসব আশ্রয় কেন্দ্রে শুকনা খাবার ও পানি বিতরণ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই
