জনগণের আশার
প্রতিফলন ঘটুক
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন একটি অবস্থায় পৌঁছেছে যে, কোথাও কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। দেশের মানুষ তাই গভীর হতাশায় সমাচ্ছন্ন। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো যেন আদাজল খেয়ে লেগেছে। গণতান্ত্রিক দেশে রাজনীতি থাকবে, মানুষ রাজনীতি করবে এটা অস্বাভাবিক নয়। তবে বর্তমানে যে পরিস্থিতি মিডিয়াতে উঠে আসছে তাতে সুন্দর বাংলাদেশের কোন আশার আলো মিলছে না। জনগণ যে কোন দেশের মূল্যবান সম্পদ। জনগণকে উপেক্ষা করে, জনগণের কথাকে প্রাধান্য না দিয়ে কোন রাজনৈতিক দল টিকে থাকতে পারেনি, পারবেও না। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উদার রাজনীতি খুব একটা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশে এমন একটি রাজনৈতিক দল দরকার যে দল মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পরিচালিত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করবে এবং জনগণের ইচ্ছাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। আমরা এমন একটি স্বপ্ন দেখি, যে স্বপ্ন পূরণ করা একমাত্র দেশের রাজনৈতিক দলগুলোই পারে। তবে কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা কে জানে?
আকাশ আহমেদ জারসা
সমাজবিজ্ঞান ওল্ড ১ম বর্ষ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
অনিবার্য সংঘর্ষ এড়াতে প্রধান দুই দলের সহনশীল অবস্থায় পৌঁছতে হবে
২০১৩ সাল বাংলাদেশের জন্য চরম বিভীষিকাময় অনাকাঙ্ক্ষিত বছর। সরকারি দল বলছে তারা ক্ষমতায় থেকেই নির্বাচন দিবে। আর প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। অর্থাত্ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা কোন ক্রমেই বসে থাকবে না।
দুই দলের চোখে নিরপেক্ষ এরকম এক বা একাধিক ব্যক্তির মধ্যস্থতায় একটি আলোচনা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে তৃতীয় কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেমন: সুশীল সমাজ, অরাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, নাগরিক সমাজ, সুপ্রীমকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতিবর্গ এবং আরও যারা নিরপেক্ষ এবং দেশপ্রেমিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তাদেরকে প্রধান দুই দল পরস্পর সমর্থন দিয়ে আলোচনায় বসতে পারে। তাছাড়া উপরোক্ত ব্যক্তিবর্গ সদিচ্ছায় প্রধান দুই দলকে আলোচনার জন্য ডাক দিতে পারেন। অনুধাবন করা উচিত, জাতি আজ একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অস্থির পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে প্রধান দুই দলের ঐক্যের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
মো. সোহাগ মিয়া
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তথ্যবিজ্ঞান বিভাগ, ১ম বর্ষ
স্যার এ.এফ. রহমান হল।
গণতন্ত্রকে অটুট রাখতে প্রধান দুই দলের মধ্যে সমঝোতা আবশ্যক
বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি রাষ্ট্র। অপ্রিয় সত্য কথা হল এই যে, বাংলাদেশ গণতন্ত্রের মোড়কে আচ্ছাদিত থাকলেও বাংলাদেশে উদার গণতন্ত্র একেবারেই অনুপস্থিত। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি উদার গণতন্ত্র বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মধ্যে নেই কোন সহনশীলতা, নেই আদর্শের বালাই। এখানে রাজনৈতিক দলগুলো লিপ্ত উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে, সংঘর্ষ ও সংঘাতে।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতির যে হাল-হকিকত যা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। আরেকটি ১/১১-এ আমাদের দেখতে হবে না তো? বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান দুই দলের মধ্যে সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক সমঝোতা দেখতে চায়, রাজনৈতিক সহনশীলতা, শ্রদ্ধাবোধ দেখতে চায়। সর্বোপরি, বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক সকল দলের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে।
মো. আল-আমিন খান
এম.এস.এস ফাইনাল, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জহুরুল হক হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
চিন্তা কি? ডিজিটাল আছে
সেই তো সমাধান দিতে
পারে
রাজনীতি বলতে বুঝায় দেশের উন্নতি ও জনগণের উন্নতি। সেই উন্নতি মানে রক্তপাত নয়। আজকে সাধারণ মানুষের মনে দানা বেধে গেছে রাজনীতি মানে রক্তপাত করা। তাদের এই ধারণা মিথ্যায় পরিণত করতে হবে। বাংলাদেশে উদার গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে।
যেখানে বাংলাদেশ ১১তম সুখি দেশ, পাশাপাশি ডিজিটাল হওয়ার শেষের পথে সেখানে দুই নেত্রীর তর্ক, তত্ত্বাবধায়ক না দলীয় সরকার তা নিয়ে বিতর্কে জড়ানো ঠিক নয়। আমাদের দেশে অনেক চ্যানেল আছে সেখানে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করে জনগণকে সরাসরি মতামত দেয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারে, পাশাপাশি মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে ভোটের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। জনগণই রায় দিবে কম ব্যয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। মোদ্দাকথা, ডিজিটালই পারে নানামুখি দিক থেকে এর সমাধান দিতে। তাই আর রক্তপাত নয়, আসুন আমরা একসাথে কাজ করি।
মো. আতিকুর রহমান সোহাগ
একাদশ, বাণিজ্য
বামনা সারওয়ার জাহান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ।
রাজনীতিবিদদেরকে
উদার মনের পরিচয়
দিতে হবে
বিরোধী দলের ধারণা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের নামে তারা বিরোধী দলগুলোকে ঠকাবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিরোধী দলগুলো নানারকম অভিযোগ এনে দেশে হরতাল বিক্ষোভ ও মিছিল করছে। অন্যদিকে মিডিয়াকে সহজলভ্য পেয়ে কিছু কিছু রাজনীতিবিদ যা ইচ্ছে তাই বলে যাচ্ছে। দেশের গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করে “রাজনীতি” যেটি নীতির রাজা সেটিকে রাজার নীতিতে পরিণত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন অনেকে। তাই নির্বাচন নিয়ে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলকে ভাবতে হলে মনের মধ্যে যে স্বার্থ উদ্ধার ও ক্ষমতার লোভগুলো আছে তা চিহ্নিত করে কাঁটার মত তুলে ফেলতে হবে। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য একাত্তরের মত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। নিজের স্বার্থ ও ক্ষমতা নিয়ে চিন্তা করলে নির্বাচনের জন্য ভাল চিন্তা মনের বাসায় ডিম পারবে না। তাই রাজনীতিবিদদেরকে উদার মনের পরিচয় দিতে হবে। উদার মনই পারে গণতন্ত্রকে উদার করতে।
নাসিরউদ্দিন ফুরকান
স্নাতক সম্মান প্রথম বর্ষ
বাংলা বিভাগ
রোল নং ৬৫/২০১১-১২ইং
সরকারি বাঙলা কলেজ, ঢাকা।
