স্পোর্টস ডেস্ক
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই দারুণ নৈপুণ্য দিয়ে ফুটবলামোদীদের আনন্দের খোরাক জুগিয়ে যাচ্ছেন। ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ার শেষে কোচিংয়েও এবার আগ্রহ দেখালেন জুভেন্তাস তারকা।
পর্তুগিজ অধিনায়ক খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচটি ব্যালন ডি’অর ও সমান সংখ্যক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই আরো অনেক ব্যক্তিগত ও দলগত পুরস্কার বগলদাবা করেছেন তিনি। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার ২০২২ সাল পর্যন্ত ইতালীয় চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ আছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে কোচিংয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। স্প্যানিশ ম্যাগাজিন আইকনকে রোনালদো বলেন, ‘আমি এর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না।’
রিয়াল মাদ্রিদে নয় মৌসুমে ৪৫০ গোল করে দলটিকে ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ২টি লা লিগা শিরোপা জিতিয়েছিলেন এই ফরোয়ার্ড। এরপর ‘নতুন চ্যালেঞ্জ’-এর খোঁজে চলতি মৌসুমের শুরুতে জুভেন্তাসে পাড়ি জমানোর পর মানিয়ে নিয়েছেন দারুণভাবেই। ৪০ ম্যাচে করেছেন ২৭ গোল। দলকে জিতিয়েছেন সিরি অ্যা ও ইতালিয়ান সুপার কাপ। এ নিয়ে রোনালদো বলেন, ‘(নতুন ক্লাবে এলে) প্রথমেই আমি যা করি তা হলো, নিজের মতো থাকা। আমার কাজ করার নীতি সবসময় একই থাকে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যদি একজন ব্যবসায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানে আসে এবং অধীনস্থ সবার ওপর চড়াও হয়, তাহলে তারা তাকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে না। তারা বলবে, ইনি আমার বস তবে তিনি আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন না।’
রোনালদো জানালেন নম্রতাই এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে তাকে। তিনি বলেন, ‘আপনাকে নম্র হতেই হবে। নিজের অজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে আপনার। যদি চতুর হন তবে এসব ছোটখাটো ব্যাপারই আপনাকে খেলোয়াড় হিসেবে আরো ভালো হতে সাহায্য করবে।’
জুভেন্তাস তারকা আরো বলেন, ‘এখানে আমি দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছি। তারা দেখেছে আমার ভেতরে কোনো প্রকারের মিথ্যা ব্যাপার নেই। আমি ক্রিশ্চিয়ানো এবং নিজের যত্ন নেওয়ার কারণেই এই পর্যায়ে এসেছি। এটা বলা এক ব্যাপার কিন্তু করা সম্পূর্ণ আলাদা। এ কারণেই আমি পাঁচটা ব্যালন ডি’অর ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছি।’
সাক্ষাত্কারটিতে রোনালদো জানান, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বেশ চাপ সহ্য করতে হয়েছে তাকে। সাবেক রিয়াল ফরোয়ার্ডের ভাষায়, ‘এটা সত্যি যে, আমি বেশ তরুণ বয়স থেকেই চাপ অনুভব করা শুরু করেছি। যখন মাদ্রিদে এসেছিলাম তখন আমি ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় ছিলাম। ম্যানচেস্টারে ২৩ বছর বয়সে আমার প্রথম ব্যালন ডি অর জয়ের পর লোকজন ভাবা শুরু করেছিল, ‘দেখো! তার তো শীর্ষেই থাকার কথা!’ শেষ দশ-বারো বছরে আমি সবসময়ই বাড়তি চাপ অনুভব করেছি।’
