তের মাসে ১৪ কোটি টাকা অভিবাসন ঋণ বিতরণ

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:০৯
গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ মাসে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ১৪শ’ বিদেশগামী কর্মীকে প্রায় ১৪ কোটি টাকার অভিবাসন ঋণ বিতরণ করেছে। এসব শ্রমিকরা ঋণ নিয়ে সৌদি আরব, ওমান, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, বাহরাইন, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইটালি, মরিশাসসহ বিভিন্ন দেশে গেছেন। এর পাশাপাশি এ সময়ে দেশে ফেরত ৫০ জন শ্রমিককে ব্যাংক পুনর্বাসনে প্রায় এক কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সি এম কয়েস সামী বলেন, পুরোদমে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরুর ১৩ মাসের মাথায় আমরা ১৪শ’ কর্মীকে অভিবাসন ঋণ প্রদান করেছি। আশা করছি আগামীতে আরো বেশিসংখ্যক কর্মীকে ঋণ দিতে পারবো।’ তিনি বলেন, বিদেশগামী বিপুল সংখ্যক কর্মী প্রতিদিন ঋণের আশায় ব্যাংকে আসছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেখে এ সব কর্মীকে স্বল্প সুদে জামানতবিহীন ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। বিদেশ গমনেচ্ছুদের জামানতবিহীন ঋণ এবং প্রত্যাবর্তনকারী বাংলাদেশিদের পুনর্বাসন ঋণ সহায়তা দেয়ায় লক্ষ্যে ২০১১ সালের ২০ এপ্রিল প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক যাত্রা শুরু করলেও ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করতে বেশ সময় লেগে যায়। সে বছরের ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকটি পুরোদমে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে । মাত্র ৯ শতাংশ সুদহারে বিদেশ গমনেচ্ছু শ্রমিকরা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ পাচ্ছেন। এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশে যেতে একজন শ্রমিক ৮৪ হাজার এবং ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য মহাদেশের যে কোন দেশে যেতে এক লাখ ১০ হাজার টাকা করে ঋণ সহায়তা পাচ্ছেন শ্রমিকরা। কয়েস সামী বলেন, আরো বেশি সংখ্যক শ্রমিককে ঋণ সহায়তা দিতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে তহবিল সংগ্রহে শ্রমিক আমদানিকারক বিভিন্ন দেশের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এছাড়া ব্যাংকের কার্যক্রম সমপ্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে শাখা স্থাপনসহ প্রবাসী অধ্যুষিত কুমিল্লা ও টাঙ্গাইল জেলায় শাখা খোলা হয়েছে। ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, নোয়াখালী ও গোপালগঞ্জে শিগগিরই শাখা খোলা হবে। বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে ইতোমধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, বাহরাইন ও কোরিয়ায় ব্যাংকের লিয়াজোঁ অফিস খোলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশি শ্রমিক অধ্যুষিত আরো দশটি দেশে লিয়াজোঁ অফিস খোলা হবে। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সহজে ও কম খরচে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন । ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বিদেশ থেকে দ্রুত এবং ব্যয় সাশ্রয়ী পন্থায় বৈদেশিক মুদ্রা দেশে প্রেরণের জন্য সহায়তা করছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। ইতোমধ্যে প্রবাসীদের জন্য পেনশন স্কীম চালু করা হয়েছে। একশ’ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিশেষায়িত এই ব্যাংকটি অচিরেই বৃহত্ পরিসরে অভিবাসীদের দোরগোড়ায় কল্যাণমুখি ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।