যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির বিকল্প নেই

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৫৪
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিম বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে তরুণ প্রজন্মসহ সারাদেশের লক্ষ কোটি মানুষ জেগে উঠেছে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ছাড়া সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একাত্তরে মানবতা-বিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করেছেন। জনতার দাবি অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতেই হবে। আইনের মাধ্যমেই সকল রাজাকারের ফাঁসি হবে। দুনিয়ার কোনো শক্তি তাদের রক্ষা করতে পারবে না। গতকাল সোমবার বিকালে রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার বড় রাস্তায় ‘একাত্তরের ঘাতক জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামায়াত-বিএনপি জোটের দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে’ স্থানীয় ১৪ দল আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী ১৪ দলের সমন্বয়ক ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি ও ন্যাপের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল হক। এছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, জাসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, সাম্যবাদী দলের পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড লুত্ফর রহমান, সংরক্ষিত সাংসদ অধ্যাপক জিনাতুন নেসা তালুকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। জনসভা পরিচালনা করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা ও ওয়ার্কার্স পার্টির মহানগর সম্পাদক কমরেড লিয়াকত আলী লিকু। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় হয়েছে। কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। কিন্তু তারও ফাঁসির দাবিতে তরুণ প্রজন্মের গণজাগরণ শাহবাগ থেকে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এজন্য তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দেশের ১৫ কোটির বেশি মানুষ আজ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে কণ্ঠ মিলিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে। জেলহত্যার বিচার সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। সবার ফাঁসির দাবিতে মানুষ সোচ্চার হয়েছে। কিন্তু বিএনপি সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কোন কথা বলছেন না। বলতে পারছেন না। কারণ তিনি ‘বেদের মেয়ে জ্যোত্স্না’ সেজে যুদ্ধাপরাধী কালসাপের ঝাঁপি মাথায় নিয়ে তাদের রক্ষার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। জামায়াত পালিয়েছে, বিএনপিও লুকিয়ে রয়েছে। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের বর্ণনা দিয়ে তিনি আরো বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই হবে। দুনিয়ার কোনো দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় না। বাংলাদেশেও হবে না। তিনি সারাদেশে জামায়াত শিবির ও বিএনপির দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে সারাদেশে গণজাগরণের সৃষ্টি হয়েছে। এখন একটাই দাবি রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।