যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি না দিয়ে ঘরে ফিরবো না

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৮
কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে সারাদেশের মতো বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে ৩ মিনিট নীরবতা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি, রাজাকার আলবদর আলশামস ও জামায়াত-শিবিরের জঙ্গি রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে মিছিল করে আপামর জনতা গতকাল জেলার জামালখান প্রেসক্লাব চত্বরে সমবেত হয়। বিকাল ৪টা বাজার পূর্বক্ষণ পর্যন্ত কাউন্ট ডাউন চলাকালে ঘৃণার বারুদের মতো শ্লোগান উঠে ‘তুই রাজাকার রক্ষা নাই। বাংলায় তোদের ঠাঁই নাই’, ‘যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি না দিয়ে/ঘরে ফিরে যাবো না’। বিকাল ৪টা থেকে গণজাগরণ চত্বরসহ সমগ্র চট্টগ্রামে অভূতপূর্ব নীরবতায় ৩ মিনিট প্রতিবাদী স্তব্ধতা পালিত হয়। সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পরপরই আবার পুরো সমাবেশ বঙ্গোপসাগরের মতো গর্জে উঠে। এদিকে মহানগরীর ইস্পাহানী মোড় ও আগ্রাবাদের গণজাগরণ মঞ্চকে কেন্দ্র করে নগরীর সর্বত্র তিন মিনিটের প্রতিবাদী নীরবতা কর্মসূচিতে আপামর জনসাধারণ অংশ নেয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত এবং নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে যে যেখানেই ছিলো সবাই নিস্তব্ধ দাঁড়িয়ে থেকে কর্মসূচিতে অংশ নেয়। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির সন্ধ্যার পর গণজাগরণ চত্বরে এসে একাত্মতা ঘোষণা করেন। গণজাগরণ চত্বর থেকে অন্যতম উদ্যোক্তা হাসান ফেরদৌস, শরিফ চৌহান, রিয়াজ হায়দারসহ অন্যরা জানান, চট্টগ্রামের প্রেসক্লাব চত্বরসহ জামালখান সড়কে গতকাল কর্মসূচি শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবাদী তারুণ্য এবং সববয়েসী মানুষের ঢল নামে। যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে ঘৃণার শ্লোগান ও ফাঁসির দাবির ধ্বনিতে এ সময় সমগ্র এলাকা প্রকম্পিত হয়ে উঠে। গণজাগরণ সাহিত্য ও ঘৃণা প্রকাশের ক্যানভাস সেন্ট মেরিস থেকে মোমিন রোড চেরাগী পাহাড় পুরো জামালখান সড়ক এখন গণজাগরণে শামিল তারুণ্যের একমাত্র গন্তব্য। এতে যোগদানকারীরা যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশের জন্য কয়েকশ’ ফুট দীর্ঘ ক্যানভাস মাটিতে বিছিয়ে দিয়েছে। ক্যানভাস এখন ভরে উঠেছে নানা বয়েসী মানুষের লেখা ঘৃণাসূচক কথা, কবিতা ও ছড়ায়। এটাকে কেউ কেউ বলছেন প্রতিবাদী সাহিত্য। এখানে লেখা হাজার হাজার ঘৃণার কথামালার কয়েকটি হচ্ছে : গোলাম আজম সাঈদী/বাংলার ইহুদি, অনেক করেছি হেলা/এবার তোদের বিচারের পালা, ১৯৭১ এর চেতনা/আর বৃথা যাবে না, জামায়াত-শিবির ও কুকুর হতে সাবধান, নবীনের আশ/হবে রাজাকারের ফাঁস, ইত্যাদি। গতকালের গণজাগরণ সমাবেশে বিশিষ্ট ছড়াকার ও শিক্ষক আলেক্স আলিস তুমুল করতালির মধ্যে তার সদ্য প্রকাশিত ‘খোকা রেগেছে/পাড়া জেগেছে’ শীর্ষক রাজাকার বিরোধী গণজাগরণের ছড়ার পুস্তিকা থেকে ছড়াগুচ্ছ পাঠ করে শোনান। পুস্তিকাতে প্রকাশিত ছড়াগুলোর মধ্যে রয়েছে মুক্তিসেনার দেশে/ব্যাপার বুঝে রাজাকার সব যাচ্ছে নিরুদ্দেশে’, ‘মায়ের চোখের শুকায়নি জল, ঘাসের ডগায় রক্ত/ফাঁসির ভয়ে কাঁপছে এবার পাকিস্তানের ভক্ত। এদিকে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আয়োজিত গণজাগরণ মঞ্চের কর্মসূচীর প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে চট্টগ্রাম চেম্বারের উদ্যোগে মানববন্ধন ও ৩ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে। জীবদ্দশায় দেখে যেতে চাই ঘাতকদের ফাঁসি :মহিউদ্দিন চৌধুরী মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচারের সর্বোচ্চ রায় এবং অন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তি করার দাবিতে বিকালে বহদ্দারহাট চত্বরে ৩ মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সেখানে বলেন, যতদিন পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত হবে না ততদিন পর্যন্ত আমাদের মুক্তিযুদ্ধ অসম্পূর্ণ। এই লক্ষ্যে আমাদেরকে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে কাজ করে যেতে হবে। আমাদের হারাবার কিছু নেই। আমাদের জীবদ্দশায় আমরা দেখে যেতে চাই ৭১-এর ঘাতকদের ফাঁসি। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইনামুল হক দানু, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম. রেজাউল করিম চৌধুরী, নোমান আল মাহামুদ প্রমুখ। এছাড়া আওয়ামী যুবলীগ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে নগরীতে মিছিল-পরবর্তী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।