বাড়ির পোষা প্রাণী থেকে শুরু করে বনের পশু অবদি বিশ্বের কমবেশি অনেক প্রাণীর মনস্তত্ত বোঝার জন্যই নানা সময়ে নানা গবেষণা চালিয়েছেন কৌতুহলী বিজ্ঞানী আর গবেষকরা। কিন্তু যদি শোনেন যে এর উল্টোপিঠে কিছু প্রাণীও একইভাবে মানুষের মনস্তত্ত বোঝার নিরন্তর চেষ্টা চালায় তাহলে কি খুব অবাক হবেন? এক্ষেত্রে অনেকেই হয়তো তাদের পোষা প্রাণীটির বুদ্ধির তারিফ করতে যেয়ে বলবেন যে, আপনাদের অনেক আচরণ যে প্রাণীটি নিজে থেকে বুঝে নেয় এতে আর নতুন করে অবাক হবার কী আছে। তবে প্রাণী পোষেন এমন কিছু মানুষের এ ধরনের দাবীর পেছনে এতোদিন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছিল না। আর সেই অপূর্ণতাই এবার কিছুটা দূর করেছেন ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের সাইকোলজি বিভাগের একদল গবেষক। কুকুরের মতো পোষা প্রাণীর উপর গবেষণা চালিয়ে এই গবেষকরা জানিয়েছেন যে, মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাদের ক্ষমতা বা সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে কিছুটা হলেও জ্ঞান রাখে কুকুরের মতো প্রাণীরা। এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য গবেষনা দলের প্রধান ড. জুলিয়ান কিছু কুকুরের খাদ্যাভাস মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। এতে দেখা যায়, গবেষণার অংশ নেয়া পোষা কুকুরগুলোকে যখন কোনো একটি খাবার খেতে নিষেধ করা হয় তখন তারা অধিকাংশ সময়ই সেটি মেনে চলে। তবে এই নির্দেশনা মেনে চলাটা তখনই প্রযোজ্য হয় যখন যে খাবারটি খেতে বলা হয়েছে সেটি আলোকময় কোনো স্থানে রাখা হয়। অথচ একই খাবার যদি অন্ধকার কোনো ঘরে রাখা হয় তাহলে নির্দেশ অমান্য করার হার চারগুন পর্যন্ত বেড়ে যায়। অর্থাত্ মানুষ যে অন্ধকারে দেখতে পায় না সে বিষয়টি কুকুরের তাদের বুদ্ধি ব্যবহার করে জেনেছে এবং এই জ্ঞানের সুযোগটাও তারা বেশ ভালোভাবেই নিতে জানে। এছাড়া একই পরীক্ষায় অন্য যে আরেকটি বিষয় গবেষকদের অবাক করেছে তাহলো, অন্ধকার ঘরে রাখা খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে পোষা কুকুরেরা অনেক দ্রুত সেটি খায়। অথচ একই পরিমাণ খাবার আলো আছে এমন কক্ষে বা মালিকের সামনে খেতে তুলনামূলক বেশি সময় নেয় কুকুরেরা। চুরি করে বা না বলে কোনো কিছু করার সময় আমরা যেমন ধরা পড়ার ভয়ে দ্রুত তা করতে চাই কুকুরদের এই আচরণকেও মানুষের তেমন আচরণের সাথে তুলনা করেছেন গবেষকরা।
