বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় কলাপাড়ায় প্রতিবছরই সিডর, আইলা ও গোর্কির মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে প্রাণ হারাতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও দুর্যোগকালীন কলাপাড়া উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। ফলে দুর্যোগকালীন আশ্রয় ঝুঁকিতে রয়েছে এসব মানুষ। তিন যুগ পূর্বে নির্মিত সাইক্লোন শেল্টারগুলো অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এসব সাইক্লোন শেল্টারের ভবনগুলো বিদ্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় যেকোন সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। জানা যায়, ১৯৭০ সালের মহাপ্লাবনে কলাপাড়ায় চার হাজার ছয়শ’ নয় জনের প্রাণহানি ঘটে। এরপর বিশ্বব্যাংক ৩১টি, কারিতাস ৩৭টি এবং রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ৫টিসহ মোট ৮৪টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এগুলোর অধিকাংশই ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বেশ কয়েক বছর আগে ১৭টি সাইক্লোন শেল্টার পরিত্যক্ত ও ১৪টির অবস্থা সংকটাপন্ন ঘোষণা করে। বর্তমানে বাকি ৫৩টির অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার লতাচাপলী, মিঠাগঞ্জ, খাপড়াভাঙ্গা, নীলগঞ্জ ইউনিয়নে পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও জরাজীর্ণ সাইক্লোন শেল্টারে এখনও প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব ভবনগুলোকে বিদ্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছে। এসব ভবন ভেঙ্গে যেকোন সময় প্রাণহানি ঘটতে পারে কোমলমতি শিশুদের। ২০০১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী উপজেলায় লোকসংখ্যা ২ লাখ ৭৮ জন। যা বর্তমানে চার লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা। উপজেলার আয়তন জনসংখ্যা এবং বর্তমানে ব্যবহার উপযোগী সাইক্লোন শেল্টারগুলোর অবস্থান দুর্যোগকালীন মানুষের সংখ্যার দিক দিয়ে একেবারেই অপ্রতুল। উপজেলার বর্তমান জনসংখ্যা অনুযায়ী কমপক্ষে দুইশ’ সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর। অন্যথায় বিপুল সংখ্যক মানুষকে থাকতে হবে দুর্যোগকালীন মৃত্যু ঝুঁকিতে।
