বাঁধের অভাবে অরক্ষিত জোয়ানশাহী হাওর

ভৈরবে কোটি টাকার ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা

আপডেট : ০৩ মে ২০১৯, ২১:৪৮

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

মাত্র তিশ ফুটের নালায় একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের অভাবে ভৈরবের জোয়ানশাহী হাওর অরক্ষিত রয়েছে। হাওরের ফসল রক্ষায় স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে মাটি ও বালুর বস্তা ফেলে প্রতিবছরই অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে আসছেন। কিন্তু যেকোনো সময় মাত্র কয়েক মিনিটে ওই বাঁধ ভেঙে  কোটি টাকার ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষক।

উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ফারুক শিকদার জানান, প্রতিবছরই চৈত্র মাসের শেষে বা বৈশাখ মাসের শুরুতে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে আসছে। মেঘনায় পানি বাড়লে ও বাঁধে ভাঙন দেখা দিলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়ামাত্রই বাঁধ রক্ষায় এলাকাবাসী ঝাপিয়ে পড়েন। এমনও সময় গেছে একদল কৃষক দিনে ও একদল কৃষককে রাত জেগে বাঁধ পাহারা দিতে হয়েছে। এতে তিনি নিজেও অংশ নিয়েছেন।

শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান সার্জন মো. আবু তাহের (অব.) জানান, দুঃখজনক হলেও সত্য, তিন ইউনিয়নের জনগণ বছরের পর বছর ধরে একটি স্লুইস গেট নির্মাণের দাবি করলেও এখনো সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে বোরো মৌসুমে এলাকার কৃষকদের জমিতে ধান পাকার সাথে সাথে বাড়ে দুশ্চিন্তাও।

ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম শরিফ খান জানান, সকল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপের অভাবে হাওরটি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। আমি সরেজমিনে হাওরটি দেখে এসেছি। এছাড়া অসময়ে উজানের পানিতে বাঁধ ভেঙে সোনালী ফসল ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় সব সময় শঙ্কিত থাকতে হয় কৃষকদের।